বিএনপি'র একটি উঠান বৈঠক চলাকালে একজন ভুক্তভোগী দাঁড়িয়ে বললেন অনেকে বিভিন্ন সংকট ও চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছে কিন্তু আমরা হতদরিদ্র পরিবারের মানুষ তাও আবার শারীরিক প্রতিবন্ধী আমাদের জন্য বিএনপি'র পক্ষ থেকে কি কিছু আছে।
এমন প্রশ্নের জবাবে তাৎক্ষনিক উঠান বৈঠক চলাকালে এক নেতাকে ইশারাতে একটি হুইল চেয়ার আনতে বলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি সদস্য সচিব মোস্তফা জামান। প্রোগ্রাম শেষে সেই শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে আর্থিক সহযোগিতাসহ একটি হুইল চেয়ার প্রধান করেন মোস্তফা জামান। এমন কার্যক্রম দেখে অনেকেই অবাক হয়ে যান। ঘটনাটি তুরাগের রানাভোলা এলাকায়। ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আয়োজিত এক উঠান বৈঠক স্থানীয় ভোটার ও আশপাশের খেটে খাওয়া মানুষ হাজারো মানুষ সেই প্রোগ্রামে অংশ নেয়।
শুধু কি তাই গত কয়েক মাসে ঢাকা ১৮ আসনে বিভিন্ন থানা এলাকায় উঠান বৈঠকের মাধ্যমে এলকাবাসীর সমস্যা সমাধান করেছে মহানগর উত্তর বিএনপি সদস্য সচিব মোস্তফা জামান। দিন দিন তার উঠান বৈঠক সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ব্যাপক দেখা মিলছে।
উঠান বৈঠকে মানুষের হৃদয়ের কথা শোনা যায় বলে এমনটাই মনে করেন মোস্তফা জামান। সাম্প্রতিক সময় তার পরিচালিত উঠান বৈঠকগুলোতে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সাধারণ মানুষ ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যার কথা সরাসরি তুলে ধরেন। এই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘রাজনীতি কেবল বক্তৃতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। বরঞ্চ মানুষের দুঃখ-কষ্ট জানা, তাদের কথা শোনা—এইটাই প্রকৃত রাজনীতি।’ আর এটাই চেয়েছেন আমাদের বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ৫ আগস্টের পর নেতাকর্মীদের প্রতিটা ঘরে বিএনপির বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। এছাড়া সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো তাদের সমস্যাগুলো সমাধানের নির্দেশনা দেন। দলটির ভেতরে আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসতে চান তারেক রহমান। বিভিন্ন সভা সমাবেশে লন্ডন থেকে যুক্ত হয়ে তিনি সে বার্তাগুলোই দিচ্ছেন।
মোস্তফা জামান বলেন, উত্তরখান এলাকায় গ্যাসের সংকট সেখানে আমি কাজ করেছি। তাদের দাবিদাওয়া নিয়ে তিতাস গ্যাস সরবরাহ কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। শুধু কি তাই উত্তরখান ও দক্ষিণ খান এলাকায় সড়কে যানজট লেগেই থাকে। সে জন্য ঐ এলাকার ট্রাফিক পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপি'র নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে দশ জন ট্রাফিক ট্র্যাকার দেয়া হয়েছে। এছাড়া জলাশয় গুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ইত্যাদি করা হয়।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তফা জামান বর্তমানে সংগঠনের অন্যতম সক্রিয়, জনমুখী ও মাঠপর্যায়ের নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। আন্দোলন, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ—সব ক্ষেত্রেই তিনি দৃঢ় অবস্থান রেখে চলেছেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক সক্ষমতা বাড়ানোর কাজে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। তার ভাষায়, ‘সংগঠন শক্তিশালী না হলে আন্দোলন কখনো টেকসই হয় না। নেতাকর্মীরাই বিএনপির আসল শক্তি।
এছাড়া ঢাকার প্রতিটি ওয়ার্ড ও থানায় সাংগঠনিক টিম প্রস্তুত করা, নিষ্ক্রিয় ইউনিটগুলো সক্রিয় করা, নতুন প্রজন্মকে যুক্ত করা—এসব কাজ তিনি নিয়মিত তত্ত্বাবধান করছেন।
রাজনৈতিক সংকট উত্তরণের বিষয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট। তিনি বিশ্বাস করেন, জনগণের ঐক্যই পরিবর্তনের প্রধান শর্ত। ‘বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্র চায়, ন্যায় বিচার চায়, ভোটাধিকার চায়। জনগণের এই দাবির পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’
তিনি আরও বলেন, ‘যতক্ষণ না মানুষের ভোটের অধিকার নিশ্চিত হচ্ছে, ততক্ষণ বিএনপির আন্দোলন থেমে থাকবে না।’
নেতাকর্মীরা বলেন, অনেক সময় ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তিনি কর্মীদের পাশে দাঁড়ান। বিগত সময় কেউ গ্রেপ্তার হলে, মামলা হলে, পরিবারের সমস্যা থাকলে তিনি দায়িত্ব নিতেন, আর্থিক সহায়তা করতেন, খোঁজখবর নিতেন। অগণিত নেতাকর্মীকে তৎকালীন সময় জালিম সরকারের জেলখানা থেকে জামিনে বের করেন মোস্তফা জামান।
তিনি বলেন, ‘এই দল আমাদের সবার। কর্মীদের ত্যাগ ছাড়া কোনো আন্দোলন সফল হয় না হবেও না। তাই তাদের নিরাপত্তা, সহায়তা ও মর্যাদা রক্ষা করা আমার দায়িত্ব।’
রাজনীতি নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি খুবই পরিষ্কার। তিনি দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের কথা বলেন। ‘স্বাধীন রাষ্ট্র মানে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা। আজকের সংগ্রাম শুধুমাত্র বিএনপির জন্য নয়, পুরো জাতির ভবিষ্যতের জন্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক, মুক্ত সমাজ। আর তা প্রতিষ্ঠা করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’
