বাড়ি থেকে খেলতে বেরিয়ে নিখোঁজ হওয়া শিশু আনাস খান (৫) চার দিন পর শ্রীপুর উপজেলার রাজবাড়ি ইউনিয়নের একটি বিলের পানিতে মরদেহ অবস্থায় পাওয়া গেছে।
স্বজনরা জানান, শুক্রবার (৭ নভেম্বর) সকালে নিজের প্রিয় বাইসাইকেল নিয়ে খেলতে বের হয় আনাস। দীর্ঘক্ষণ বাড়ি না ফেরায় আশপাশে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে প্রতিবেশি সাজুর বাড়ি থেকে আনাসের ব্যবহৃত সাইকেলটি পাওয়া যায়। কিন্তু তার কোনও হদিস মেলেনি। চার দিন পর সোমবার (১০ নভেম্বর) সকালে বাড়ির অদূরে থাকা এক বিলের পানিতে শিশুটির মরদেহ পাওয়া যায়।
নিহতের দাদা হাসেন আলী খান জানান, সারা বাড়ি মাথায় করে রাখতো আনাস। একটু পর পর সাইকেল নিয়ে বের হয়ে আবার ফিরত। ওই দিন আর বাড়ি আসেনি। আনাস মরদেহ হয়ে বাড়ি ফিরল। আমাদের কলিজার টুকরা আনাস। আমাদের বাড়িটা শ্মশানে পরিণত হয়েছে। আমরা হত্যাকারীদের শাস্তি চাই।
শিশু আনাসের ফুফা মনির হোসেন বলেন, আনাসের বাবা আল আমীন খান সৌদিতে প্রবাসী আছেন। ছেলে নিখোঁজের খবর পেয়ে একদিন পরই বাড়ি চলে আসেন। আজ সন্তানের অর্ধগলিত মরদেহ পেল। এমন মর্মান্তিক ঘটনা মানা যায়না। সারা বাড়ি মাতিয়ে রাখতো আনাস। সুযোগ পেলেই সাইকেল নিয়ে বের হয়ে ঘুরাঘুরি করতো। আজ চরদিন পর এমন ফুটফুটে শিশুর মরদেহ মিলল।
শ্রীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, নিখোঁজের পরপরই শিশুর দাদা জিডি করেছিলেন থানায়। এ পরে সন্দেহভাজন দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার তথ্যেরে ভিত্তিতে বাড়ির অদূরে বিলে পানিতে ডুবিয়ে রাখা শিশুর মরদেহ মিলেছে।
তিনি আরও বলেন, শিশুর শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে। তদন্তের প্রয়োজনে গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে পরে আরও বিস্তারিত জানানো হবে। মরদেহ উদ্ধারের পর মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
