রাজধানীতে আট ঘণ্টার ব্যবধানে দুই ছাত্রদল নেতা খুন

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:২৮ পিএম

রাজধানীতে একই দিনে মাত্র আট ঘণ্টার ব্যবধানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দুই নেতার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একজনের লাশ গুলশানে, অন্যজনের মোহাম্মদপুরে পাওয়া যায়। 

নিহতরা হলেন পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার সূর্যমনি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদস্য সৌরভ এবং মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির আহমেদ।

পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, সৌরভকে বিএনপির গুলশান অফিস থেকে বের হওয়ার পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। 

পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক একটায় গুলশান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বাসায় ফেরার পথে গুলশান লেকের কাছে দুর্বৃত্তরা তার ওপর হামলা চালায়। 

একাধিক ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

বাউফল পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি হুমায়ুন কবির একে ‘পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যা’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “সৌরভ একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ছিলেন। 

এই হত্যাকাণ্ড সাধারণ অপরাধ নয়, এটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ।” তিনি হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

নিহতের পরিবারও হতাশা ও শোকে আচ্ছন্ন। ভাই সাইফুল ইসলাম বলেন, “পুলিশ আমাদের ফোন করে জানায় যে ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। তবে কেন ঢাকায় এসেছিলেন, সে বিষয়ে তিনি আমাদের কিছু বলেননি।” নিহতের ভগ্নিপতি মো. মাসুম বিল্লাহ জানান, ঘটনার পর থানায় মামলা দায়ের করা হবে।

গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “মরদেহ গুলশান লেকের পাশে পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুসারে তিনি একজন গাড়ি চালক ছিলেন। হত্যার পেছনে প্রেমসংক্রান্ত বিষয় থাকতে পারে।”

একই দিনে সকালে মোহাম্মদপুরে সাব্বির আহমেদের লাশও উদ্ধার করা হয়। তিনি হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ছিলেন। 

মোহাম্মদপুর থানার ওসি কাজি রফিক জানান, সকালে কয়েকজন যুবক লাশটি থানায় নিয়ে আসে। তদন্ত এখনও চলছে এবং প্রাথমিকভাবে কোনো মামলা দায়ের হয়নি।

মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরাম আহমেদ জানান, “সাব্বিরের লাশ হাতে ও পায়ে দাগসহ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে আমরা হাসপাতালে উপস্থিত হয়েছি।”

দুই নেতার আকস্মিক মৃত্যুর কারণে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে শোক এবং উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে। সংশ্লিষ্ট থানাগুলো উভয় ঘটনার কারণ উদঘাটনের জন্য পৃথকভাবে তদন্ত চালাচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত