কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে এবার রোপা আমন ধানের আবাদ কৃষি বিভাগের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করছে কৃষি বিভাগ। গত বোরো মৌসুমে ধানের ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের আমন ধান চাষে আগ্রহ বেড়েছে। অনেকে বাড়তি খরচ জোগাতে ধারদেনা করে জমি আবাদ করেছেন। কিন্তু এরই মধ্যে ধানক্ষেতে বেড়েছে ইঁদুর ও মাজরা পোকার আক্রমণ। বড় বড় ইঁদুর দল বেঁধে ক্ষেতে ঢুকে ধানগাছ কেটে ফেলছে। বিষ দিয়েও মাজরা পোকা দমন করতে পারছেন না কৃষক। ফলে ক্ষেতের ফসল বাঁচাতে কৃষকরা এখন চরম দুশ্চিন্তায়।
গত রবিবার সকালে করিমগঞ্জের হাওরসহ কয়েকটি এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় সব ক্ষেতের ধানগাছে ধানের শিষ বেরোতে শুরু করেছে। গাছগুলোও বেশ সতেজ ও হৃষ্টপুষ্ট কিন্তু অনেক ক্ষেতেই ইঁদুর এবং মাজরা পোকার উপদ্রবে ধানগাছগুলো মরে শুকিয়ে যাচ্ছে।
জানা গেছে, কৃষি বিভাগের এবারের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৩ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ। চূড়ান্তভাবে আমন ধান আবাদ হয়েছে ১২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে। বোরো ফসলের মতো আমন ধান আবাদেও ভালো ফলনের আশায় সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন কৃষকরা।
এ বিষয়ে উপজেলা চরপাড়া এলাকার কৃষক হাবু মিয়া, নেয়ামতপুরের সুরুজ আলী, কাদিরজঙ্গল এলাকার জিন্নত আলী, পৌর এলাকার কৃষক মেনু মিয়াসহ অনেকের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, জমিতে বিভিন্ন শব্দ করে, বাঁশেরকঞ্চি কূপে রঙিন কাগজ টানিয়ে, চুঙ্গি দিয়ে চেষ্টা করেও ইঁদুর তাড়ানো যায় না। কৃষি অফিসারদের পরামর্শে ক্ষেতে মাজরা পোকা দমনে বিষ দেওয়া হচ্ছে, তাতেও কাজ হচ্ছে না।
করিমগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার অপূর্ব চন্দ্র ধর বলেন, ‘এ উপজেলায় আমাদের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আরও বেশি জমিতে ধান আবাদ হবে বলে কৃষি বিভাগ আশা করলেও এরই মধ্যে ধানক্ষেতে ইঁদুরের উপদ্রব বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন জমিতে মাজরা পোকার আক্রমণে মারাত্মকভাবে ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। তবে প্রত্যেক এলাকায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা ব্যাপক কাজ করছেন। আমরাও কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি। তারপরও
কৃষকরা যেন কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন, আশা করি আমনের বাম্পার ফলন হবে।’
