ইডেন গার্ডেন্সে তখন তুমুল উত্তেজনা। জয়ের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার প্রয়োজন ৩ উইকেট (আসলে ২টি) আর ভারতের প্রয়োজন ৪৭ রান। চোটের কারণে শুবমান গিল হাসপাতালে থাকায় ভারতের উইকেট ছিল আসলে দুটি। ক্রিজে ছিলেন অক্ষর প্যাটেল আর জসপ্রিত বুমরা। এমন সময় প্রোটিয়া অধিনায়ক বল তুলে দিলেন কেশব মহরাজের হাতে! ম্যাচের অমন সময়ে এটাকে জুয়া খেলা ছাড়া আর কীইবা বলা যায়!
ভারতের ভরসা হয়ে থাকা অক্ষর বাঁহাতি ব্যাটার। মহারাজও বাঁহাতি স্পিনার। বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের সামনে বাঁহাতি স্পিনারকে পাঠানো ক্রিকেট ব্যকরণের বাইরে। সুযোগটাও নিলেন অক্ষর। প্রথম চার বলের মধ্যেই মারলেন ২টি ছক্কা, ১টি চার। ধারাভাষ্যকারেরা পর্যন্ত বাভুমার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা শুরু করলেন। তারপরই বদলে গেল দৃশ্যপট। শট খেলার লোভে পড়ে পঞ্চম বলে আবারও ছক্কা মারার চেষ্টা করলেন অক্ষর, কিন্তু বল জমা পড়ল বাভুমার হাতে।
পরের বলেই শেষ ব্যাটার মোহাম্মদ সিরাজ ক্যাচ দিলেন স্লিপে। ভারত অল-আউট হয়ে গেল ৯৩ রানে। প্রোটিয়ারা পেল ৩০ রানের জয়। ম্যাচ শেষে মহারাজ জানান, তিনি নার্ভাস হয়ে পড়েছিলেন, ‘(দুটি ছয় এবং একটি চার খাওয়ার পর) কিছুটা নার্ভাস লাগছিল। আমি শুধু নিশ্চিত হতে চেয়েছিলাম যে, আমার পরিকল্পনা সঠিকভাবে প্রয়োগ করছি কিনা। সৌভাগ্যক্রমে সেটা কাজে দিয়েছে। টেম্বার অসাধারণ ক্যাচে ম্যাচে ফিরে আসি। হারমারও অসাধারণ বোলিং করেছেন। কেন তার ১০০০টি ফার্স্ট-ক্লাস উইকেট রয়েছে তা প্রমাণ করেছেন। পুরো দলের প্রচেষ্টাই অসাধারণ ছিল।’
ওই মুহূর্তের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন ১৫ বছর পর ভারতের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে টেস্ট জেতানো অধিনায়ক টেম্বা বাভুমাও, ‘কেশ (কেশব মহারাজ) এবং সিমন (হারমার) দারুণ বোলিং করেছে। উইকেটেও স্পিনারদের জন্য কিছু ছিল। আর (অক্ষরের বিপক্ষে বাঁহাতি স্পিনার) এটা সহজ ছিল না। গুরুত্বপূর্ণ মূহূর্তে অক্ষর মেরে খেলছিল। ভাগ্যক্রমে সে একটা ভুল করেছে এবং আমি ক্যাচটা নিতে পেরেছি। খুবই উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ ছিল। ব্যাটারদের জন্য কঠিন, তাই বোলারদের ওপর নির্ভর করতেই হতো। তারা তাদের কাজটা ঠিকঠাক করে দিয়েছে।’
মাত্র ৯৩ রানে অল-আউট হয়ে ভারতের বিব্রতকর হার
ছেলেবেলায় মহাদুষ্টু ছিলেন স্কালোনি; স্কুল থেকে হয়েছিলেন বহিস্কার
নেইমারের জন্য 'দৌড়াতে হলে দৌড়াবেন' কাসেমিরো 