কার্লো আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিল দলে যে নতুন ধারার জন্ম হয়েছে, তা আবারও স্পষ্ট হয়েছে শনিবার লন্ডনে সেনেগালের বিপক্ষে ২-০ গোলের দাপুটে জয়ে। আগের আন্তর্জাতিক বিরতিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়া সেলেসাও এবার হারাল টানা ২৬ ম্যাচ অপরাজিত থাকা শক্তিশালী সেনেগালকে। এস্তেভাও (আনচেলত্তি যুগে সর্বোচ্চ ৪ গোল) এবং কাসেমিরোর গোলই আত্মবিশ্বাসী জয়ের ভিত গড়ে দেয়।
ফলাফলের চেয়েও বেশি আশাব্যঞ্জক ছিল ব্রাজিলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স, বিশেষ করে প্রথমার্ধে। রক্ষণভাগটিকে দেখা যায় অভিজ্ঞ, ভারসাম্যপূর্ণ আর আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। মারকিনহোস-গ্যাব্রিয়েল জুটি যেমন কেন্দ্র রক্ষণ সামলেছেন, তেমনি মিলিতাও ডানদিকে এবং আলেক্স সান্দ্রো বামদিকে নিখুঁতভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাদিও মানের নেতৃত্বাধীন শক্তিশালী সেনেগালিজ আক্রমণকে তারা পুরো ম্যাচেই নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। রক্ষণচাপ সামলাতে সহায়তা করেছেন ব্রুনো গিমারেস ও এস্তেভাও। গোলরক্ষক এডেরসনকে তাই পুরো ৯০ মিনিটে মাত্র একবারই কঠিন সেভ করতে হয়েছে যদিও নিজের এক ভুল পাসে সামান্য দুশ্চিন্তা তৈরি করেছিলেন।
তবে ম্যাচের আসল নায়ক ছিল ব্রাজিলের আক্রমণভাগ। এস্তেভাও-রদ্রিগো-ভিনি জুনিয়র, কুনহা এই চতুষ্টয় আনচেলত্তির আসার পর ক্রমেই জমে উঠছে। দারুণ গতি, ছোট ছোট পাসে আক্রমণ গড়ার শিল্প, এক-দুইয়ের মুভমেন্ট সবই দেখা গেছে সেনেগালের বিপক্ষে। কাসেমিরো ও ব্রুনো গিমারেসকে কেন্দ্র করে মাঝমাঠে তৈরি হয়েছে দারুণ সমন্বয়। একজন আক্রমণে উঠলে অন্যজন নেমে এসে জায়গা তৈরি করে দিচ্ছেন এই ভারসাম্যই ব্রাজিলের খেলাকে করেছে তরল।
প্রথম গোলটিতে কাসেমিরোর ড্রিবলিং ও ডিফ্লেক্টেড পাস থেকে এস্তেভাওর নিখুঁত চিপ শট; দ্বিতীয়টিতে রদ্রিগোর ফ্রি-কিক থেকে কাসেমিরোর দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রণ ও ফিনিশ সবই প্রমাণ করে দুই মিডফিল্ডার কতটা কার্যকর। প্রথমার্ধেই একের পর এক সুযোগ তৈরি করেছে ব্রাজিল। সেনেগালের রক্ষণ ভেঙে পড়েছিল ব্রাজিলের ধারাবাহিক আক্রমণে। উচ্চ প্রেসে প্রতিপক্ষকে ভুল করতে বাধ্য করেছে আনচেলত্তির দল।
এই ফরমেশনটি এস্তেভাও-রদ্রিগো-ভিনি-কুনহায়া বিশ্বকাপেও প্রথম পছন্দ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে কুনহা কি প্রথম একাদশে থেকে যাবেন, নাকি স্থায়ী স্ট্রাইকার বা রাফিনহা ফেরালে কাঠামো বদলাবে সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
এস্তেভাওয়ের ৫ ম্যাচে ৪ গোল : জাতীয় দলের হয়ে শেষ পাঁচ ম্যাচে চতুর্থ গোল করা এস্তেভাও ম্যাচ শেষে বলেন, ‘এটাই আমার জীবনের সেরা সময়। জাতীয় দলে থাকা মানে আমার কাছে সবকিছু। প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করছি যেন এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।’ দলে জায়গার জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা নিয়েও বলেন এই তরুণ, ‘এখানে প্রতিযোগিতা থাকাটাই ভালো। তবে পা মাটিতে রাখা জরুরি।’
অন্যদিকে এস্তেভাওকে ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ বলছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি, ‘এত অল্প বয়সে এমন প্রতিভা অবিশ্বাস্য। ফিনিশিং অসাধারণ। ওর মধ্যে ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ নিরাপদ। তিনি আরও বলেন, ‘মিলিতাঁও-এস্তেভোঁ জুটি দারুণ কাজ করেছে। প্রথমার্ধ ছিল অসাধারণ উচ্চচাপ, আগ্রাসন, সৃজনশীলতা। দ্বিতীয়ার্ধে আমরা নিয়ন্ত্রিত ফুটবল খেলেছি।’
