চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনারের পর এবার ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী ওয়্যারলেস সেটে নির্দেশ দিয়েছেন যানবাহনে যারা আগুন ও ককটেল হামলা করবে, তাদের সরাসরি গুলি করতে পারবে পুলিশ। এই বার্তা আসার পর আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে বিভিন্ন মহলে।
সিএমপি কমিশনার এসএমজি দিয়ে গুলির নির্দেশ দেওয়ার পর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিল মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। সন্দেহভাজন অপরাধীকেও আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া হত্যা বা গুলি চালানোর নির্দেশ ‘কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে আসক জানায়।
জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি ওয়্যারলেসে বলেছি যে কেউ বাসে আগুন দিলে, ককটেল মেরে জীবনহানির চেষ্টা করলে তাকে গুলি করতে। এটা আমাদের আইনেই বলা আছে।’
গতকাল রবিবার বিকেলে বেতারবার্তায় কমিশনার এমন নির্দেশনা দেন বলে জানিয়েছেন ডিএমপির একাধিক কর্মকর্তা। তবে তারা নাম প্রকাশ করতে চাননি। ওই কর্মকর্তারা জানান, পুলিশ সদস্যদের মনোবল চাঙা করার জন্য স্যার এমন নির্দেশনা দিয়ে থাকতে পারেন। দণ্ডবিধির ৯৬ ধারায় বলা হয়েছে, ‘ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার অধিকার প্রয়োগকালে কৃত কোনো কিছুই অপরাধ নয়। তবে এভাবে সরাসরি গুলির নির্দেশ এলে পুলিশ আগের মতোই আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। গত সপ্তাহেও চট্টগ্রামে কয়েকটি ‘টার্গেট কিলিংয়ের’ পর দিশেহারা নগর-পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গুলি করে হত্যার নির্দেশ দেন। গত ১১ নভেম্বর দুপুরে বেতারবার্তার মাধ্যমে এই নির্দেশনা দেন সিএমপি কমিশনার। এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে।
জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হবে আজ সোমবার। এই রায় ঘিরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা রাজধানীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পেজ, গ্রুপ ও ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে দলটির সমর্থকরা ছড়াচ্ছে গুজব, উসকানি ও সংঘবদ্ধ হওয়ার বার্তা। এরই মধ্যে দেশের কয়েক জেলায় সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শনিবার রাত পর্যন্ত পিরোজপুর, কিশোরগঞ্জ, ফরিদপুরসহ অন্তত চার জেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি করে আওয়ামী লীগ। এসব জায়গায় অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। পিরোজপুরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ, কিশোরগঞ্জে জিয়া পরিষদ ও ফরিদপুরে গ্রামীণ ব্যাংকের শাখায় আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। গত বৃহস্পতিবার রায়ের দিন ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। কর্মসূচি চলাকালে রাজধানীর হাতিরঝিল, মিরপুর, আগারগাঁও ও বিমানবন্দর রেলস্টেশনসহ বিভিন্ন এলাকায় দুর্বৃত্তরা ককটেল বিস্ফোরণের পাশাপাশি যানবাহনে আগুন দিয়েছে।
