কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পূর্ব বিরোধের জেরে ইয়াছমিন (৩৫) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগির পরিবার জানিয়েছে, হামলাকারীরা ওই নারীর শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কাশিনগর ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামে। ভুক্তভোগি ওই নারী একই গ্রামের কুয়েত প্রবাসী এনামুল হকের স্ত্রী।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগি ইয়াছমিন তার প্রতিবেশী একই গ্রামের মৃত হাজী কালা মিয়ার ছেলে মোঃ শামছুল হক (৬০), মোঃ আদম হক (৪৫) ও মোঃ নুরুল হক (৫৮) সহ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগি ইয়াছমিন ও অভিযুক্তরা একই এলাকার বাসিন্দা।
অভিযুক্তরা ভিকটিমের স্বামীর শ্বশুর হয়। দীর্ঘদিন ধরে তাদের সঙ্গে ভুক্তভোগির স্বামী এনামুল হকের জমি সংক্রান্ত ও পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এর ধারাবাহিকতায় অভিযুক্ত শামছুল হক, আদম হক ও নুরুল হক স্বামীর অনুপস্থিতিতে গৃহবধূ ইয়াছমিনকে বিভিন্নভাবে অপমান, শারীরিক লাঞ্ছনা ও নির্যাতন করে আসছিল।
ঘটনার দিন, মঙ্গলবার সকাল আটটায় অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ইয়াছমিনকে গালমন্দ করতে থাকে। বিষয়টি নিয়ে ভিকটিম তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়।
এ সময় বিনা কারণে হামলা চালিয়ে ইয়াছমিনকে বেধড়ক মারধর করা হয়। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুসি, লাথি ও উষ্ঠা মারার পাশাপাশি নীলা-ফুলা জখমসহ গুরুতর আহত করে। শোর-চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ শেষে চিকিৎসকের পরামর্শে বর্তমানে তিনি বাসায় সম্পূর্ণ বিশ্রামে রয়েছেন।
ভুক্তভোগি ইয়াছমিন জানিয়েছেন, “গতকাল আমাকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। প্রায় ১৭ বছর ধরে তারা আমাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করছে। স্বামী প্রবাসে থাকায় আমি ছোট ছেলে-মেয়ে নিয়ে একা থাকি। তারা সুযোগ নিয়ে পরিকল্পিতভাবে আমাকে মারধর করেছে এবং শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করেছে। থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। হামলাকারীদের কঠোর শাস্তি চাই।”
ভিকটিম ইয়াছমিনের মাতা নূরজাহান বেগম ও ছেলে আনিসুল হক বলেন, “অনেক বছর ধরে তারা আমাদেরকে নির্যাতন করছে। মঙ্গলবার সকালে পরিকল্পিতভাবে বেধড়ক মারধর করেছে। আমরা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই।”
প্রধান অভিযুক্ত শামছুল হক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।” পরে তিনি ফোনটি কেটে দেন।
চৌদ্দগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক মো. নুরুল আমিন বলেন, “আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বাদী ও বিবাদীর সঙ্গে কথা হয়েছে। জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে এই ঘটনা ঘটেছে। উভয়পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে থানায় আসতে বলেছি।”
চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন আহমেদ জানান, “এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তের জন্য পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
