সুগারের সাধারণ উপসর্গ সম্পর্কে অনেকেই জানলেও, এই রোগের কিছু লুকানো লক্ষণ রয়েছে যা বেশিরভাগ সময়েই নজরে আসে না। কিন্তু গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। ডায়াবেটিসের এমন কয়েকটি অপ্রচলিত উপসর্গের কথা, যেগুলো অবহেলা করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে।
ডায়াবেটিস সাধারণত নীরবে শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। নিয়মিত রক্তপরীক্ষা না করলে রোগ ধরা পড়ে দেরিতে। প্রচলিত লক্ষণ- অতিরিক্ত তেষ্টা, ঘন ঘন প্রস্রাব, ক্লান্তি, দুর্বলতা; এসবের বাইরে আরও কিছু গোপন ইঙ্গিত রয়েছে যা জানা জরুরি। চলুন, জেনে নিই ডায়াবেটিসের অপ্রচলিত লক্ষণগুলো।
অস্টিওপোরোসিস
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে হাড়ের ঘনত্ব কমে যেতে পারে। এতে অল্প ধাক্কাতেই হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। হাড় দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়া ডায়াবেটিসের লুকানো সংকেত হতে পারে।
গ্যাস্ট্রোপ্যারেসিস
দীর্ঘদিন অজানা ডায়াবেটিস পাকস্থলীর স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে খাবার অন্ত্রে যেতে সময় লাগে। এতে বমিভাব, পেট ফাঁপা, হজমে সমস্যা বা কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়।
দাঁত ও মাড়ির সংক্রমণ
ডায়াবেটিস দাঁতের গোড়া দুর্বল করে। মাড়িতে সংক্রমণ, দাঁত আলগা হয়ে যাওয়া বা পড়ে যাওয়া এ রোগের অচেনা উপসর্গগুলোর একটি।
মূত্রাশয়ের সমস্যা
স্নায়ুর ক্ষতির কারণে মূত্রাশয়ের নিয়ন্ত্রণ কমে যেতে পারে। ফলে প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা বা ব্লাডার পুরোপুরি খালি না হওয়া এসব সমস্যা দেখা দিতে পারে।
নারীদের যৌন সমস্যা
ডায়াবেটিস আক্রান্ত মহিলাদের যৌন স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলে। যৌন আগ্রহ কমে যাওয়া বা অন্যান্য যৌন সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ত্বকের পরিবর্তন
ঘাড়ে বা শরীরের ভাঁজে কালো দাগ, শুষ্কতা, চুলকানি কিংবা ফাঙ্গাল সংক্রমণও ডায়াবেটিসের ইঙ্গিত হতে পারে।
পরামর্শ
হঠাৎ হাড় দুর্বল হওয়া, হজমের সমস্যা, ত্বকে পরিবর্তন কিংবা মাড়ির সংক্রমণ দেখা দিলে অবহেলা নয়, তৎক্ষণাৎ ডায়াবেটিস পরীক্ষা করানো উচিত। রোগ যত দ্রুত শনাক্ত হবে, নিয়ন্ত্রণে আনা তত সহজ হবে।
সূত্র : বর্তমান
