কোন হাসপাতালে কতজন চিকিৎসা নিয়েছে জানাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:০৭ পিএম

ভুমিকম্পে আহতরা রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় ৪ জন এবং ঢাকার বাইরে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৫০৭ জন। তাদের মধ্যে ১৪৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাসায় পাঠানো হয়েছে।

হতাহতদের দেখতে দুপুরে ঢামেকে যান স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম। এসময় তিনি জানান, প্যানিকের কারণে বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। চিকিৎসায় যাতে ত্রুটি না হয়, সকল সরকারি হাসপাতালে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, নরসিংদী থেকে আহত যে দুইজনকে ঢামেকে রেফার্ড করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একটি শিশু মারা গেছে। শিশুটির বাবা আইসিইউতে আছেন। মিটফোর্ড হাসপাতালে তিনজন মারা গেছেন। এরমধ্যে ওই হাসপাতালের শিক্ষার্থী রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা একজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি নরসিংদী থেকে আসেন। এছাড়া ৪২ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। ভর্তি করা হয় ৬ জনকে। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মিটফোর্ড হাসপাতাল) তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় ১৬ জনকে, ভর্তি করা হয়েছে ১ জনকে। পঙ্গু হাসপাতালে ৮৩ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়, ভর্তি করা হয়েছে ১৮ জনকে। শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল ২ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

নরসিংদী সদর হাসপাতাল ৫৬ প্রাথমিক চিকিৎসা ও ১ জনকে ভর্তি করা হয়। দুইজনকে রেফার্ড করা হয়েছে। নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জনকে, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন, বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন, সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৪ জন, নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ১৩ জন, গাজীপুরের কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ জনকে ভর্তি করা হয়েছে।

গাজীপুরের তাজ উদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩০ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা এবং ৫৫ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। গাজীপুরের টঙ্গী আহসানুল্লাহ হাসপাতালে ৬৪ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা, ১৪ জনকে ভর্তি এবং ৭ জনকে রেফার্ড করা হয়েছে। গাজীপুর শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৪ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা, ৪৭ জনকে ভর্তি এবং ৬ জনকে রেফার্ড করা হয়েছে।

এদিকে, ভূমিকম্পে আহতদের চিকিৎসার জন্য জরুরি প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) কর্তৃপক্ষ। বিএমইউর সাধারণ জরুরি বিভাগে প্রয়োজনীয় শয্যা আহতদের জরুরি চিকিৎসার জন্য সংরক্ষিত হিসেবে রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিএমইউর নিউরোসার্জারি বিভাগ, অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগ এবং এ্যানেসথেশিয়া, এনালজেশিয়া এন্ড ইনটেসসিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিএমইউ’র ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম এর জরুরি নির্দেশে এই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএমইউ’র নবনিযুক্ত পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইরতেকা রহমান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত