তীব্র সংঘর্ষের মধ্যে কর্দোফানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে সুদানি সেনাবাহিনী

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:২৯ এএম

সুদানের দক্ষিণাঞ্চলের উত্তর ও পশ্চিম কর্ডোফান রাজ্যে সেনাবাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর সঙ্গে সংঘর্ষের মধ্যেই নতুন অগ্রগতি অর্জন করেছে। বার্তা সংস্থা আনাদোলু শনিবার (২২ নভেম্বর) সামরিক সূত্রকে উদ্ধৃত করে এই খবর দিয়েছে।

সেনাবাহিনী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ উম সামিমা এলাকায় ব্যাপক সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে আরএসএফ বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অগ্রসর হচ্ছে। এল-ওবেইদ শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই অঞ্চল উত্তর ও পশ্চিম কর্ডোফানকে সংযুক্ত করে। সামরিক সূত্র জানায়, সেখানে ভারী ও হালকা অস্ত্র ব্যবহার করে সেনা আরএসএফের অবস্থান ধ্বংস করছে।

পশ্চিম কর্ডোফানের আল-খুয়াই অঞ্চলের পশ্চিম দিকে সেনা ও মিত্র বাহিনীর অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। এল-ওবেইদ থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে এই এলাকায় সংঘর্ষ চলার খবর পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার সুদানি সেনাবাহিনী কর্দোফানের বিভিন্ন যুদ্ধফ্রন্টে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জনের দাবি করেছিল।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই অগ্রগতি আরএসএফ-নিয়ন্ত্রিত দারফুর অঞ্চলের দিকে সেনাবাহিনীর এগিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। অন্যদিকে আরএসএফও জানিয়েছে যে তারা উত্তর কর্ডোফানের জাবাল আবু সুনুন, জাবাল ইসা এবং আল-আইয়ারা এলাকায় কিছু সাফল্য পেয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৬ অক্টোবর আরএসএফ এল-ফাশার শহর দখল করে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী সেখানে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর গণহত্যার ঘটনা ঘটে। বর্তমানে আরএসএফ পশ্চিম সুদানের দারফুরের পাঁচটি রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে, আর সুদানি সেনাবাহিনী দক্ষিণ, উত্তর, পূর্ব ও কেন্দ্রীয় অঞ্চলসহ মোট ১৩টি রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যার মধ্যে রাজধানী খার্তুমও অন্তর্ভুক্ত।

২০২৩ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া সুদানি সেনাবাহিনী ও আরএসএফের সংঘাত এখনও চলছেই। এই যুদ্ধ ইতোমধ্যে হাজারো মানুষের প্রাণ কেড়েছে এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত