রাশিয়ার সম্ভাব্য হুমকি ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতির পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে জার্মান সরকার গত সপ্তাহে নতুন সামরিক আইন প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে। বহু বছরের অবহেলার ফলে দুর্বল হয়ে যাওয়া সেনাবাহিনীকে পুনর্গঠন করাই মূল লক্ষ্য এই উদ্যোগের।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের লক্ষ্য ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী গঠন করা। নতুন বিল অনুযায়ী, দেশটি ২০৩৫ সালের মধ্যে সেনাদের সংখ্যা ১৮০,০০০ থেকে বাড়িয়ে ২,৬০,০০০ এবং রিজার্ভে আরও ২,০০,০০০ জন অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে।
প্রাথমিকভাবে স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগের উপর জোর দেওয়া হবে, যেখানে মাসিক বেতন ২,৬০০ ইউরো নির্ধারণ করা হয়েছে। যদি লক্ষ্য পূরণ না হয়, সরকার বাধ্যতামূলক সামরিক ডাকে শর্ত আরোপ করতে পারবে। ২০২৭ সাল থেকে ১৮ বছর বয়সী পুরুষদের মেডিক্যাল পরীক্ষা দেওয়া বাধ্যতামূলক হবে।
বিল এখনও জার্মান পার্লামেন্টে অনুমোদনের অপেক্ষায়, অনুমোদিত হলে এটি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি কার্যকর হবে। সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন ব্যবস্থায় প্রশিক্ষণ, আর্মামেন্ট এবং জনবল বৃদ্ধির মাধ্যমে জার্মান সেনা আরও সক্ষম হবে এবং এটি অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য উদাহরণ স্থাপন করতে পারে।
তবে নতুন প্রস্তাব দেশের বামপন্থী মহল ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিতর্কিত। এক জরিপে দেখা গেছে, ডানপন্থী দল ডাই লিঙ্কে-র ভোটারের ৮০% বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার বিপক্ষে। অনেক তরুণই মনে করেন, স্বেচ্ছাসেবীভাবে সেনা বাহিনীতে যোগদান সম্ভব হলে বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণের প্রয়োজন নেই।
