কুষ্টিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে দুরারোগ্য ব্যাধি ‘ফাইবাস ডিসপ্লাসিয়া’ রোগের যন্ত্রণা সইতে না পেরে সদ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন বিশেষ সুবিধা বঞ্চিত শিক্ষার্থীর সুমি খাতুন নামের ছাত্রী আত্মাহুতি দিয়েছেন।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) ভোর রাতে সুমি খাতুন (২৭) মিরপুর উপজেলার আমবাড়িয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে তার শয়নকক্ষের আড়ার সাথে ওড়না পেচিয়ে আত্মাহুতি দিয়েছে বলে জানায় পুলিশ। সংবাদ পেয়ে দুপুরে মিরপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রস্তুত করেন।
নিহতের বাবা হত দরিদ্র ভ্যান চালক গোলাপ রহমান জানান, আর্থিক সংকট ও অস্বচ্ছলতা, শারীরিক প্রতিবন্ধীতা এবং দেহের মধ্যে দুরারোগ্য বয়ে বেড়ানো সত্তেও সুমি অদম্য মেধার পরিচয় দিতে পেরেছিলও। এতো কিছু সংকট মাথায় নিয়েও লেখাপড়ার সর্বোচ্চ ডিগ্রী নিয়েও শেষ পরিণতি এই মর্মান্তিক মৃত্যু। সুমি নিজের মতো করে রোগের চিকিৎসা করানোর চেষ্টাও করেছে। ঢাকার সর্বোচ্চ হাসপাতাল বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় বড় ডাক্তার দেখিয়েও রোগ থেকে মুক্তি না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত যন্ত্রণার অবসানে আজ নিজেই নিজের পথ বেছে নিলো।
মিরপুর উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মো. জামশেদ আলী জানায়, সুমি খাতুন জন্মগত ভাবেই শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিলেন, সেকারণে শুরু থেকেই আমাদের ভাতা ভোগী ছিলেন তিনি। যতদূর শুনেছি মেয়েটা লেখাপড়ায় ভালো ছিলও উচ্চতর ডিগ্রীও নিয়েছিলেন। সমস্যা কি এতোই তীব্র ছিলও যে নিজের জীবন নিজেই শেষ করে দিলো।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নিহতের লাশের সুরতহাল প্রস্তুতকারী মিরপুর থানার পুলিশ কর্মকর্তা এসআই রাকিব জানান, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে নিহত সুমি খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ তার নিজ বাড়ির শয়ন কক্ষ থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের পরিবারের সাথে কথা বলে এবং তার চিকিৎসা পত্র ও রোগের পরীক্ষা নিরীক্ষার কাগজপত্র থেকে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই সুমি খাতুন ফাইবাস ডিসপ্লাসিয়া নামক এক দুরারোগ্য ব্যাধিতে ভুগছিলেন। এই রোগে সাধারণত রোগীর দেহে অসহ্য যন্ত্রণা হয় যা প্রতিদিন সুমি খাতুনের নিত্য সঙ্গী ছিলও। তাছাড়া তার হত দরিদ্র পরিবারের তোমন আর্থিক কোন স্বচ্ছলতাও ছিলও না তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ কেনার মতো। লাশ উদ্ধারের পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করায় লাশের ময়না তদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
