বগুড়ায় হানিট্র্যাপে কৃষি কর্মকর্তা, জড়িতদের বিরুদ্ধে চার্জশিট

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:০৬ পিএম

বগুড়ার কৃষি বিভাগের উপপরিচালক মুহা. মশিদুল হকের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, মব সৃষ্টির চেষ্টা ও হানিট্র্যাপের ঘটনায় পুলিশের তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে করা নাটকীয় ধর্ষণ মামলার অভিযোগের কোনো প্রমাণ মেলেনি। 

ওই নারীর মামলায় তাকে দায়মুক্তি দিয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, হানিট্র্যাপে ফেলে চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।

মঙ্গলবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম। তিনি জানান, নিখুঁতভাবে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। 

বগুড়া কৃষি বিভাগের জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসার (উপপরিচালক) মশিদুল হকের বিরুদ্ধে ‘বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ’-এর অভিযোগে রত্না পারভীন নিপা নামের এক নারী মামলা করেছিলেন। 

সাক্ষ্য–প্রমাণে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। মামলার দায়মুক্তির জন্য গত ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, কৃষি কর্মকর্তার দায়ের করা হানিট্র্যাপ ও চাঁদা দাবির মামলার তদন্তে আলামত ও সাক্ষ্য পর্যালোচনায় অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তাকে তুলে নিয়ে নারীসঙ্গের দৃশ্য ধারণ এবং ফাঁদে ফেলে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। 

সাক্ষ্য–প্রমাণের ভিত্তিতে জড়িত দুইজনের বিরুদ্ধে গত ১০ অক্টোবর আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। তারা হলেন—বগুড়া শহরের মালগ্রাম এলাকার রত্না পারভীন নিপা এবং সেউজগাড়ীর সৌরভ।

আদালতে দাখিল করা চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার চার মাস আগে বগুড়া জেলা বীজ প্রত্যয়ন দপ্তরে যোগ দেন মশিদুল হক। এরপর থেকেই তিনি নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হন। 

গত ১৫ জুন অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে শহরের জলেশ্বরীতলা ইয়াকুবিয়া মোড়ে আসামিরা কৌশলে তাকে পথরোধ করে নিয়ে যায়। সেখানে তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। 

ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে একজন নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্ত সাজিয়ে চিত্র ধারণ করা হয়। এ ঘটনায় গত ১ আগস্ট বগুড়া সদর থানায় মামলা করেন মশিদুল হক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত