ঝালকাঠি 

সদর হাসপাতালের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ডা. শামীমের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২৫, ১১:৫৫ এএম

দরপত্রে অনিয়ম ও প্রতারণার মাধ্যমে ২ কোটির অধিক টাকার ঠিকাদারি কাজ একটি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ও বর্তমানে খাগড়াছড়ি হাসপাতালে কর্মরত ডা. শামীম আহমেদসহ চার জনের নামে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদক পিরোজপুর কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক পার্থ চন্দ্র পাল বাদী হয়ে বুধবার (২৬ নভেম্বর) এ মামলা করেন। 

অন্য আসামিরা হলেন বরিশালের কাটপট্রি রোডের ঠিকাদার শিপ্রা রানী পিপলাই, তার ছেলে সোহাগ কৃষ্ণ পিপলাই ও স্বামী সত্য কৃষ্ণ পিপলাই। 

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৩–২৪ অর্থবছরে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে মেডিকেল সাপ্লাই রিকুইজিশন (এমএসআর) সামগ্রী ক্রয়ের জন্য ৫ কোটি টাকার অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রফেশনাল পিয়ার্সার্স (এপিপি) অনুমোদন করা হয়। এরপর গজ, ব্যান্ডেজসহ বিভিন্ন সামগ্রী ক্রয়ের জন্য তত্ত্বাবধায়ক ডা. শামীম আহমেদ ২ কোটি ১৬ লাখ ২৫ হাজার টাকার দরপত্র আহ্বান করেন। ছয়টি গ্রুপের প্রতিটিতে ৫টি করে দরপত্র বিক্রি দেখানো হয়।

দরপত্র জমা দেয় চার প্রতিষ্ঠান মেসার্স আহসান ব্রাদার্স, পিপলাই এন্টারপ্রাইজ, বাপ্পী ইন্টারন্যাশনাল ও শহিদুল ইসলাম। মূল্যায়ন কমিটির নেতৃত্বে ডা. শামীম তিনটি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আহসান ব্রাদার্স, পিপলাই এন্টারপ্রাইজ ও বাপ্পী ইন্টারন্যাশনালকে উপযুক্ত বিবেচনায় কার্যাদেশ দেন। অভিযোগে বলা হয়, এই তিনটি প্রতিষ্ঠানই পরিচালনা করেন আসামি সোহাগ কৃষ্ণ পিপলাই।

মেসার্স আহসান ব্রাদার্সের প্রোপাইটর দেখানো হয়েছে সোহাগের বাবা সত্য কৃষ্ণ পিপলাইকে, বাপ্পী ইন্টারন্যাশনালের প্রোপাইটর তার মা শিপ্রা রানী পিপলাইকে, আর পিপলাই এন্টারপ্রাইজের মালিক সোহাগ নিজে। তিনটি প্রতিষ্ঠানের ঠিকানাই বরিশাল সদরের ৮৩৭/৮৩৮ উত্তর কাটপট্রি।

বাদী পার্থ চন্দ্র পাল বলেন, আসামি ডা. শামীম ও অন্যান্যরা পরস্পর যোগসাজশে দরপত্রে আইটেমভিত্তিক কাছাকাছি দর দেখিয়ে প্রতিযোগিতার ভান তৈরি করেছেন। যা পিপিআর বিধিমালা অনুযায়ী চক্রান্তমূলক কাজ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. শামীম আহমেদ বলেন, সাজানো ও বানানো অভিযোগে আমার নামে মামলা করা হয়েছে। আমি ষড়যন্ত্রের শিকার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত