নেপাল থেকে আরও অন্তত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনা করছে সরকার। এ ছাড়া শীতকালে বাংলাদেশে বিদ্যুতের চাহিদা উৎপাদন ক্ষমতার চেয়ে কম হওয়ায় এ সময়ে নেপালে বিদ্যুৎ রপ্তানির বিষয়টিও নতুন করে আবার গুরুত্ব পেয়েছে। বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ-নেপাল যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির ৭ম সভায় এসব বিষয় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত সভায় বাংলাদেশের পক্ষে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ফারজানা মমতাজ এবং নেপালের পক্ষে সে দেশের বিদ্যুৎ, পানি সম্পদ ও সেচ সচিব চিরঞ্জীবী চাটৌট নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।
পিডিবির পরিচালক (জনসংযোগ) মো. শামীম হাসান জানান, বৈঠকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা অংশে বিদ্যমান ‘এইচভিডিসি’ সিস্টেম ব্যবহার করে নেপাল থেকে আরও ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করার ব্যাপারে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এ ছাড়া নেপালে বেসরকারি বিনিয়োগে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের বিষয়টিও উঠে এসেছে। পাশাপাশি শীতকালে চাহিদা কমে যাওয়ায় বাংলাদেশ থেকে নেপালে বিদ্যুৎ রপ্তানির বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের নভেম্বর থেকে নেপাল থেকে ৪০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ আমদানি শুরু করে বাংলাদেশ। তবে এই বিদ্যুৎ সারা বছর পাওয়া যাবে না। গ্রীস্মে নেপালের উদ্বৃত্ত উৎপাদনের সময়ই কেবল এই বিদ্যুৎ বাংলাদেশে রপ্তানি করবে নেপাল। ভারতের উপর দিয়ে ওই বিদ্যুৎ আমদানির ফলে ভারতকে সঞ্চালন চার্জের পাশাপাশি ইউনিট প্রতি নির্দিষ্ট মুনাফাও দিতে হয় বাংলাদেশকে।
সভায় বাংলাদেশ ও নেপালের যৌথ বিনিয়োগে নেপালে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, আন্তঃসংযোগ গ্রিড লাইন ব্যবহার করে নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি বিষয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ পরিবহন ভারতের ভূখণ্ড অতিক্রম করবে বিধায় এ বিষয়টি বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের ত্রিপক্ষীয় সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান করার বিষয়ে মত প্রকাশ করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।
বিদ্যুৎ খাতে স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি বিদ্যুতের বিশেষ আইন বাতিল করেছে। সে মোতাবেক ভারতের জিএমআর গ্রুপ কর্তৃক নেপালে বাস্তবায়িতব্য আপার কার্নালি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুতের ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি সম্পর্কীয় এলওআই (লেটার অব ইনটেন্ট) বাতিল করা হয়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিষয়টি এ বছরের ২৮ আগস্ট জিএমআরকে জানিয়েছে বলে তা উপস্থাপন করা হয় বৈঠকে।
সভায় বাংলাদেশ ও নেপালে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও দক্ষতা বিনিময়ে উভয় দেশের মধ্যে সহযোগিতার বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। এ ছাড়া বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া রূফটপ সোলার প্রোগ্রামের আওতায় প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অভিজ্ঞতা বিষয়েও নেপালের প্রতিনিধি দলের সাথে আলোচনা করেন কর্মকর্তারা। অন্যদিকে জ্বালানি দক্ষতা ও জ্বালানি অডিট সংক্রান্ত কার্যক্রমে নেপাল সরকারকে সহযোগিতা প্রদানের বিষয়টি আলোচিত হয়।
জেএসসি সভায় বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি বিল্ডিংয়ের কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়ে উভয় দেশ সম্মতি প্রকাশ করে। এ সময় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিপিএমআই এর প্রশিক্ষণ সক্ষমতার বিবরণ তুলে ধরার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ এবং বাংলাদেশ-ভারত ও নেপালের মধ্যে ত্রিপাক্ষিক সমঝোতার বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা সংক্রান্ত বাংলাদেশ-নেপাল জয়েন্ট স্টিয়ারিং কমিটি ও জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের ৬ষ্ঠ সভা গতবছর নেপালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কমিটির পরবর্তী ৮ম সভা আগামী অক্টোবর, ২০২৬-এ নেপালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
