রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আবারও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন,ইউক্রেনের সেনারা ক্রিমিয়া ও দোনবাসের দখলকৃত অংশ সহ রাশিয়ার দাবি করা সব অঞ্চল ছাড়লেই কেবল যুদ্ধ বন্ধ হবে। কিরগিজস্তানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইউক্রেন রাজি না হলে রাশিয়া বলপ্রয়োগ করতে বাধ্য হবে।
শুরুতে রাশিয়ার পক্ষপাতিত্বে থাকা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের যৌথ শান্তি-প্রস্তাব জেনেভায় সংশোধনের পর এখন মস্কো পর্যালোচনা করছে। পুতিন বলেছেন, নতুন এই খসড়া আলোচনার ভিত্তি হতে পারে কিন্তু কিছু মূল বিষয়ে এখনও ভাষায় ও মর্মে পরিবর্তন প্রয়োজন।
দখলকৃত অঞ্চলগুলোর ভবিষ্যৎই আলোচনার সবচেয়ে বড় জটিলতা। পুতিন ইঙ্গিত দিয়েছেন, ক্রিমিয়া ও দোনবাসকে আইনগতভাবে না হলেও প্রায়োগিকভাবে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া নিয়ে ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে আলোচনা চলছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল আগামী সপ্তাহে মস্কো পৌঁছানোর কথা—তাদের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারও যোগ দিতে পারেন। কিয়েভ জানিয়েছে, জেনেভায় যেসব বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে, সেগুলোকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য তারা মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি পুতিনের মন্তব্য একেবারেই নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, রাশিয়া প্রকৃত শান্তি প্রচেষ্টাকে তাচ্ছিল্য করছে। পুতিন নিজের পক্ষ থেকে আবারো দাবি তুলেছেন যে ইউক্রেনের বর্তমান নেতৃত্ব অবৈধ—যা কিয়েভ ও পশ্চিমা দেশগুলো সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইউরোপীয় নেতারাও মস্কোর অভিপ্রায় নিয়ে সন্দিহান। ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লেয়েন অভিযোগ করেছেন যে রাশিয়া এখনো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী শক্তি-বিভাজনের মানসিকতায় আটকে আছে এবং ইউরোপকে বিভাজিত করতে চাইছে ।
