পাবনায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, অস্ত্রধারী যুবককে নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:৩৩ পিএম

পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় পিস্তল হাতে এক যুবকের গুলি বর্ষণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, অস্ত্রধারী ওই যুবক জামায়াত শিবিরের সক্রিয় কর্মী। অন্যদিকে জামায়াত নেতাদের দাবি, তিনি বিএনপির কর্মী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকালে ঈশ্বরদীর সাহাপুর ইউনিয়নের চরগড়গড়ি গ্রামে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে গেলে জামায়াত ও বিএনপির কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হন। ফেসবুকে ছড়ানো ভিডিওতে দেখা যায় দুই পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যেই সাদা টিশার্ট ও জিনসের প্যান্ট পরা এক যুবক ডান হাতে পিস্তল উঁচিয়ে গুলি ছুড়ছেন।

সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি মক্কেল মৃধা বলেন, গুলি চালানো ওই যুবকের নাম তুষার হোসেন। তিনি জামায়াত শিবিরের কর্মী। তার গুলিতে বিএনপির কয়েকজন আহত হয়েছেন।

তিনি দাবি করেন, তুষার ঈশ্বরদী পৌর শহরের ভেলুপাড়া গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে। জামায়াতের প্রার্থী আবু তালেব মণ্ডলের বাড়িও ভেলুপাড়া গ্রামে। তুষার তার নিকটতম প্রতিবেশী ও সবসময় তালেব মণ্ডলের সঙ্গে থাকেন।

অন্যদিকে পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী আটঘরিয়া) আসনে জামায়াতের প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির আবু তালেব মন্ডল বলেন, ‘আমরা অস্ত্রের রাজনীতি করি না। আমাদের কোনো কর্মীর হাতে অস্ত্র ছিল না। আমরা গ্রামটিতে গণসংযোগে গিয়েছিলাম। আমাদের ওপর বিএনপির সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে আহত করেছে। তাদের কয়েকজনকে গুরুতর অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেলে নেওয়া হয়েছে।’

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আব্দুর নূর বলেন, ‘ঘটনায় দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, পাবনা-৪ আসনে সংসদ সদস্য পদে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান ও জামায়াত প্রার্থী হিসেবে আছেন জেলা জামায়াতের আমির আবু তালেব মন্ডল। উপজেলার চরগড়গড়ি গ্রামে কয়েক দিন ধরে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। দুই দিন আগে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বিকালে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী এলাকায় গণসংযোগে যান। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি, হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত