হংকংয়ের উত্তরাঞ্চলীয় তাই পো জেলায় একটি আবাসিক কমপ্লেক্সে লাগা আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। গতকাল শুক্রবার স্থানীয় দমকল কর্র্তৃপক্ষ জানায়, টানা ৪২ ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২৮ হয়েছে; এখনো নিখোঁজ প্রায় ২০০ জন। গত বুধবার বিকেলে ওয়াং ফুক কোর্ট আবাসিক কমপ্লেক্সের একটি ভবনে আগুন লাগার পর দ্রুত তা একাধিক ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। হংকংয়ের নিরাপত্তাপ্রধান ক্রিস ট্যাং জানান, জীবিতদের অনুসন্ধান অভিযান শেষ হয়েছে। এখনো প্রায় ২০০ জনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। অন্তত ৭৯ জন আহত হয়েছে।
‘ওয়াং ফুক কোর্ট’ আবাসন কমপ্লেক্সের ৮টি ভবনে ৪ হাজার ৬০০’র বেশি মানুষ থাকত। ভবনগুলোতে সংস্কারকাজ চলছিল এবং পুরো কমপ্লেক্স বাঁশের মাচা ও সবুজ নিরাপত্তা জালে ঢাকা ছিল। ফলে গত বুধবার বিকেলের আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ বলছে, জানালায় দাহ্য ফোম বোর্ডসহ ভবনগুলোতে অনিরাপদ নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের তিন কর্মকর্তাকে অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ওই আবাসিক এলাকার বহুতল ভবনগুলোতে সংস্কারকাজ চলছিল। আগুন লাগার সময় প্রতিটি ভবনের বাইরের দিকে বাঁশের মাচা ও সবুজ জাল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল।
বুধবার কমপ্লেক্সের ওয়াং চিয়ং হাউজে আগুনের সূত্রপাত হয়। গতকাল শুক্রবার সকালেও আগুন জ¦লতে দেখা যায়। ত্রুটিপূর্ণ অগ্নিসতর্কতা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে শ্রমিকদের সিগারেট খাওয়া অনেক বাসিন্দা এসব ঝুঁকির সঙ্গে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে জড়ো হয়ে তাদের কেউ কেউ অভিযোগ করেন, অবহেলা ও খরচ কমানোর প্রবণতাই এ আগুনের কারণ। অনলাইনেও অনেকের মন্তব্যে এমনটা বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জনগণের ক্ষোভ ও উদ্বেগ শুধু নির্মাণ কোম্পানিগুলোর দিকে নয়, সরকারের অগ্নিনিরাপত্তা ও ভবন নিয়ন্ত্রণ সংস্থার দিকেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা জানতে প্রকাশ্য তদন্তের জন্য চাপ বাড়বে।
কর্র্তৃপক্ষ বলছে, গতকাল থেকেই পুলিশ ভবনগুলোতে ঢুকে প্রমাণ সংগ্রহ শুরু করেছে; আগামী তিন থেকে চার সপ্তাহ ধরে তদন্ত চলবে। তারা জানায়, আটটি ভবনের সবগুলোতেই ফায়ার অ্যালার্ম পরীক্ষায় দেখা গেছে কোনোটিই ঠিকভাবে কাজ করছিল না। তারা আরও জানায়, আগুন নেভাতে ৩৯১টি ফায়ার ইঞ্জিন মোতায়েন করা হয়। ২ হাজার ৩১১ জন অগ্নিনির্বাপণকর্মী অভিযানে অংশ নেন, তাদের মধ্যে ১২ জন আহত হয়েছেন। এই আগুনের ঘটনায় ১৮৮টি অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়েছিল।
