রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক ও হল শাখা শিবিরের নেতা নুরুল ইসলাম শহীদ তাঁর বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে নিজ অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেন, একজন ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে আজকের ঘটনায় আমার কিছু আচরণ ও অসংগতিপূর্ণ ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে, যা বিষয়ে আমি যথেষ্ট সংযত থাকা উচিত ছিল। এই পরিস্থিতি আমি আরও দায়িত্বশীলভাবে মোকাবিলা করতে পারতাম।
গতকাল শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) রাত সোয়া ১০টার দিকে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্টে এই বক্তব্য প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে, শুক্রবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ মখদুম হল ও নবাব আব্দুল লতিফ হলের দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে তর্কবিতর্কের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নবাব আব্দুল লতিফ হলের শিক্ষার্থীরা হল সংসদের জিএস ও হল শাখা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম শহীদসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে আসেন। এরপর তাদের সঙ্গে তর্কবিতর্ক আরও তীব্র আকার নেয়। এক পর্যায়ে জিএস শহীদ বলেন, ‘আমি ওই হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত, আমি আসব। তুই কে রে? তোকে ফারদার বললাম এরকম আর হলে লতিফ হলে সামনে উল্টা করে ঝুলায় মারব। শুকরের বাচ্চা। ওর রাহট আছে, ও লতিফ হলে খেতে যাবে।’
নবাব আব্দুল লতিফ হলের জিএস শহীদ এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘আজ দুপুরে খাবার শেষে আমি রুমে অবস্থান করছিলাম। হঠাৎ জানালা দিয়ে দেখি, শাহ মখদুম হলের সামনে আমাদের দুই শিক্ষার্থী ও আরও কয়েকজনের মধ্যে তর্কবিতর্ক চলছে। বিষয়টি জানার জন্য আমি সহ অন্যান্য শিক্ষার্থীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই এবং পুরো পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করি।’
তিনি বলেন, লতিফ হলের আরিফ হোসেন (২১-২২) এবং রাকিব (২১-২২) শাহ মখদুম হলে খাবারের জন্য গিয়েছিল। সেখানে একটি শিক্ষার্থীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। শাহ মখদুম হলের ওই শিক্ষার্থী আরিফকে বাজে ভাষায় গালিগালাজ করে এবং শেষে হুমকির সুরে বলেন, ‘বাইরে বের হ, তোদের দেখে নেব।’
এ ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই লতিফ হলের শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়। একই সময়ে হুমকি প্রদানকারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে অন্য একজন শিক্ষার্থী সমর্থন জোগান এবং আমাদের প্রশ্ন করে কেন সেখানে এসেছি। তখন আমরা জানাই—আমাদের হলের একজন শিক্ষার্থীর সমস্যা মানেই আমাদের সবার সমস্যা।
তিনি আরও বলেন, ‘ঠিক সেই মুহূর্তে বাকবিতণ্ডার ধারা কিছুটা বিশৃঙ্খল হয়ে যায়। উত্তাপে আমি বলি, আমাদের হলের কোনো শিক্ষার্থীকে বিনা অপরাধে হেনস্থা করা বা গালিগালাজ করা হলে, তাহলে ‘তাকে লতিফ হলের সামনে ঝুলিয়ে রাখা হবে’—এই কথাটি কেবল প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে বলা হয়েছিল। এটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়নি এবং বাস্তবে এমন কিছু করার উদ্দেশ্যও ছিল না।’
নিজের বক্তব্যে আরও সংযত হওয়া দরকার ছিল বলে শিবিরের নেতা জানান, ‘একজন ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে আজকের ঘটনায় আমার কিছু আচরণ ও অসংগতিপূর্ণ কথা ব্যবহৃত হয়েছে, যা বিষয়ে আমি যথেষ্ট সংযত থাকা উচিত ছিল। আমি উক্ত ঘটনায় অনুতপ্ত, তবে সেখানে আমাকে আরও দায়িত্বশীলভাবে পরিস্থিতি সামলানো উচিত ছিল। তবে কোনোভাবেই অন্যায়ের প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় আমার বিরুদ্ধে যতই মিডিয়া ট্রায়াল হোক, আমাকে দমিয়ে রাখা যাবে না। আমার কথা বা কাজে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।’
ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা
রাজধানীতে বাড়ছে শীতের প্রভাব: আকাশ থাকবে পরিষ্কার