ছাত্রদল নেতা হত্যা: স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ককে প্রধান করে মামলা

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ০৬:৫৩ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছাত্রদলের সাবেক নেতা সাদ্দাম হোসেনকে (৩৫) গুলি করে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন ওরফে দিলীপকে প্রধানসহ সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।

শুক্রবার রাতে নিহতের বাবা মোস্তফা কামাল ওরফে মস্তু মিয়া বাদী হয়ে এই মামলা করেন।

মামলার প্রধান আসামি দেলোয়ার হোসেন (৪৯) জেলা শহরের কান্দিপাড়ার মাইমলহাটির বাসিন্দা। মামলায় তার সহযোগী একই গ্রামের বাবুল মিয়া (২৮) ও তার ভাই শাকিল মিয়া (৩৫), পলাশ মিয়া (৩৫), টিটন মিয়া (৩৪), বাপ্পা মিয়া (২৬) ও দেলোয়ার হোসেনের ভাই কাজল মিয়া (৪৫)। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো ৫-৭জনকে আসামি করা হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কান্দিপাড়া এলাকায় বাসা থেকে ডেকে নিয়ে ছাত্রদলের সাবেক ওই নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। স্বজনদের অভিযোগ, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা দেলোয়ার হোসেন ও তার সহযোগীরা তাকে হত্যা করেছেন। নিহত সাদ্দাম হোসেন সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য। তিনি শহরের কান্দিপাড়ার মাইমলহাটির মোস্তফা কামালের ছেলে। তার স্ত্রী ও দুটি মেয়ে আছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, দেলোয়ার হোসেনের নামে অস্ত্র ও মাদকের মামলা রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে আধিপাত্য বিস্তার নিয়ে দেলোয়ার ও একই এলাকার বাসিন্দা সদর উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিল সিকদারের মধ্যে ঝগড়া ও গোলাগুলি হয়। এতে দেলোয়ার আরো ক্ষিপ্ত হয়।

দেলোয়ার ও তার সহযোগীরা সন্দেহ করে, শাকিলের পক্ষের সঙ্গে সাদ্দামের যোগাযোগ আছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বাড়ি থেকে সাদ্দামকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় দেলোয়ার ও তার সহযোগীরা। সাদ্দামকে ডেকে নেওয়ার কারণ চান স্ত্রী ফারজানা আক্তার।  কিছুক্ষণের মধ্যেই সাদ্দাম ফিরে আসবে বলে স্ত্রীকে জানান দেলোয়ারসহ তার সহযোগীরা জানান। তারা দেলোয়ারকে মারধরসহ বুকের বামপাশে গুলি করে এবং বাম কানের নিচে ও গলায় ছুরি দিয়ে কেটে জবাই করে সাদ্দামকে হত্যা করে। পরে লাশ কান্দিপাড়ার শংকর সাহার বাড়ির পূর্বপাশের রাস্তায় রেখে চলে যায়। সাদ্দামের পিঠ, দুই পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলসহ অন্যান্য আঙ্গুল এবং মাথায় ফুলা জখম ছিল।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম বলেন, নিহতের বাবা দেলোয়ার হোসেনসহ সাতজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। অস্ত্র উদ্ধারসহ আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত