ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সেই পরিবারের গান গাওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গত চারদিন ধরে তারা নির্ধারিত স্থান পৌর মুক্ত মঞ্চে গান গাইতে পারছেন না, যেখানে প্রায় ৫০ বছর ধরে গান গেয়ে জীবিকা নির্বাহী করতো ওই পরিবার।
অন্ধ পরিবারের প্রধান ব্যক্তি হেলাল মিয়া জানান, গত বুধবার তারা প্রতিদিনের মতো গান করছিলেন। এরই মধ্যে কয়েকজন এসে গান গাইতে বাধা দেন। যে দলই ক্ষমতায় আসুক তাদেরকে এখানে গান গাইতে দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়। বাউল শিল্পী আবুল সরকারের কথাও এ সময় উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি তাদেরকে ভিক্ষাবৃত্তি করে সংসার চালাতে বলা হয়। তবে কে বা কারা এসে বাধা দিয়ে গেছেন এ বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রাজঘর গ্রামের হেলালের পরিবারে মোট ১৩ জন সদস্য। এর মধ্যে নয়জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। উপার্জনক্ষমদের মধ্যে তিনি নিজে একা, তার চার ছেলে ও এক মেয়ে চোখে দেখেন না। তবে তারা কারো কাছে হাত পাতেন না। গান গেয়ে যে আয় হয় তা দিয়ে চলে তাদের সংসার। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর মুক্তমঞ্চে প্রতিদিনই দেখা মিলতো দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এ পরিবারটির। এখানে বসেই তারা গান গেয়ে শুনান। গানে খুশি হয়ে টাকা দেওয়ার অনুরোধ করেন। প্রতিদিন এক-দেড় হাজার থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত তারা আয় করতেন।
হেলাল মিয়ার বয়স ৬৫ পেরিয়েছে। সদর উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের গানের শিল্পী শাহনূর শাহ এর কাছ থেকে হেলাল মিয়া সঙ্গীতের প্রশিক্ষণ নেন ছেলে বেলাতেই। মাত্র ১০-১২ বছর বয়স থেকেই গান করে বেড়াতেন। পরবর্তীতে সন্তানদেরকেও গান শেখান। পঞ্চাশ বছর ধরে হেলাল মিয়া ও পরবর্তীতে তার পরিবারের সদস্যরা পৌর মুক্ত মঞ্চে গান করতেন।
হেলাল মিয়া বলেন, আমরা ভয়ে এখন এখানে গান করছি না। ৫০ বছর ধরে গান গাইলেও এমন হয়নি। এখন এমন কোনো জায়গাও পাচ্ছি না যে গান গাইবো। গান গেয়ে আয় করতে না পারলে আমাদের সংসার চলা কঠিন হয়ে পড়বে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও পৌরসভার সাবেক মেয়ের হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমি অন্ধ পরিবারটি বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছি। কিছু উশৃংখল ছেলে নাকি অন্ধ পরিবারকে বাঁধা দিয়েছে। আমি অন্ধ পরিবারটিকে বলেছি আবার বসতে।
খাগড়াছড়িতে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কর্মবিরতি শুরু
মেসিকে থামাতে গিয়ে আঙুল ভেঙেছিল ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তির