ক্ষমতা প্রেমীদের বাংলার মাটিতে জায়গা হবে না: চরমোনাই পীর

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:৪৭ পিএম

৫ দফা দাবিতে আন্দোলনরত আট দলের ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে বরিশাল বেলস পার্কে বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

সোমবার (২ ডিসেম্বর) দুপুর বারোটা থেকে শুরু হয়ে বিকাল চারটা পর্যন্ত চলমান এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ‘যারা ক্ষমতা প্রেমিক, যারা বিভিন্ন সময়ে মুখরোচক কথার মাধ্যমে ধোঁকা দিয়ে ক্ষমতার চেয়ারে বসে হাজার হাজার মায়ের বুক খালি করেছে, দেশের সম্পদ পাচার করেছে, চোরের দিক থেকে বারবার ফার্স্ট করেছে - তাদের জায়গা বাংলার মাটিতে হবে না। তাদেরকে উৎখাত করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা বাংলাদেশের পরিবেশকে অশান্ত করার পায়তারা করছে, তাদের জায়গা বাংলাদেশে হবে না। আমরা এদেশকে ফ্যাসিবাদ মুক্ত করার জন্য রাজপথে আন্দোলন করেছি। কিন্তু চাঁদাবাজি দেখার জন্য রাস্তায় নামেনি, মানুষ খুন হবে এটা দেখার জন্যও রাস্তায় নামেনি।’

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ‘আমাদের দেশ নিয়ে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চলছে। আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে। যারা ক্ষমতায় গিয়ে দেশের টাকা বিদেশে পাচার করেছে, তাদেরকে এদেশে আর সুযোগ দেয়া হবে না।’

চাঁদাবাজি, টেন্ডার বাজি ও স্টেশন দখলের সাথে জড়িতদের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আপনাদের পায়ের নিচের মাটি সরে গেছে। এখনো আপনারা পরিবর্তন হোন। হাসিনাও বলেছিলও 'শেখ হাসিনা পালায় না। কিন্তু তিনি রান্না করা খাবার খেয়ে যেতে পারেননি। সুতরাং দেশের সবার শিক্ষা নিতে হবে। নয়তো এমন পরিণতির জন্য আপনাদেরকে প্রস্তুত থাকতে হবে।’

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ‘আপনারা অনেক শাসন দেখেছেন, এবার ইসলামকে সুযোগ দিন। আমরা একটি সুখী, সমৃদ্ধশালী ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র উপহার দেব ইনশাআল্লাহ। ইসলামপন্থীরা ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজি থাকবে না, অবিচার থাকবে না, খুনাখুনি থাকবে না, দেশের টাকা বিদেশে পাচার হবে না।’

বক্তব্যের শেষে তিনি অসুস্থ বেগম খালেদা জিয়া এবং জামায়াত নেতা আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ তাহেরের সুস্থতা কামনা করেন।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েব আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা আট দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছি ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে দুইটা দলের কথা বলেছেন - একটা হলও হিজবুল্লাহ আরেকটা হিজবুশ শয়তান। সুতরাং আমরা আল্লাহর দলে থাকতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘আসুন আমরা একসাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কুরআনের আইন চালু করি। আমরা মানবরচিত আইনের সংবিধান দেখতে চাই না। মদিনার ইসলাম কায়েম করতে চাই। সংস্কারের মাধ্যমে আমরা সংবিধান থেকে ইসলামবিরোধী ধারা বাতিল করতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, একটি দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কিন্তু তাদেরকে যারা সহযোগিতা করেছে তাদেরকেও নিষিদ্ধ করতে হবে। সবশেষে তিনি ৮ দলকে আগামী দিনে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।

মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম শায়খে চরমোনাই বলেন, বাংলাদেশে ইসলামী হুকুমত কায়েম হলে দেশের সর্বস্তরের মানুষ শান্তিতে বসবাস করবে। ইসলামী হুকুমত হলে এদেশে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবাই স্বাধীনভাবে বসবাস, ব্যবসায় বাণিজ্য ও ধর্মীয় আচার পালন করবে।

তিনি বলেন, আজকের এ সমাবেশ দেখে কেবল জালিম ও চাঁদাবাজরাই নাখোশ হতে পারে, মুক্তিকামী মানুষ আশার আলো দেখবে ইনশাআল্লাহ।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর, সহকারী মহাসচিব, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, খেলাফত মজলিসের আমীর, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমীরসহ আট দলের শীর্ষ ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত