সকল চাকরিতে মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিতকরণ ও পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি বন্ধের আহ্বান
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ গভীর উদ্বেগের সঙ্গে জানাচ্ছে যে, ১৭তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ১০২ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৩ জনকে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না করেই পুলিশ ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে নিয়োগ-গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
বাদ পড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এবং গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরা রয়েছেন।
এই শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ প্রস্তুতি, কঠিন প্রতিযোগিতা ও কমিশনের সুপারিশের মাধ্যমে মেধার স্বাক্ষর রেখে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে যদি কোনো ফৌজদারি অপরাধের প্রমাণ না থাকে, তবে তাদের গেজেটভুক্ত করার দাবি জানানো হচ্ছে।
একজন মেধাবী ও যোগ্য শিক্ষার্থীকে চাকরির অধিকার থেকে বঞ্চিত করা সংবিধান ও সুশাসনের পরিপন্থি।
বিজেএস, বিসিএসসহ সকল চাকরিতে নিয়োগের একমাত্র ভিত্তি হওয়া উচিত মেধা ও যোগ্যতা।
শুধুমাত্র পারিবারিক বা বংশীয় রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে বঞ্চিত করা সংবিধান, নিরপেক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও সুশাসনের মূল নীতির সঙ্গে সম্পূর্ণরূপে সাংঘর্ষিক।
ডাকসু, রাকসু, চাকসু ও জাকসু আইন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি করছে: দ্রুততম সময়ে ১৭তম বিজেএস গেজেট থেকে বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের প্রমাণ না পাওয়া গেলে সংশোধিত গেজেট প্রকাশ করতে হবে।
বিজেএস, বিসিএসসহ সকল চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কেবল মেধা ও যোগ্যতাকেই একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে অযথা হয়রানি বন্ধ করতে হবে এবং কাউকে গেজেট থেকে বাদ দিলে অবশ্যই সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করতে হবে।
একই সঙ্গে গেজেটবঞ্চিতদের নিজস্ব বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ ও আরোপিত অভিযোগের যথাযথ জবাব প্রদানের মাধ্যমে তাদের দ্রুত গেজেটভুক্ত করতে হবে।
শিক্ষার্থীরা তাদের প্রচেষ্টা, মেধা ও যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চাকরির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ও সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।
বিজেএস, বিসিএসসহ সকল চাকরির পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে শিক্ষার্থীদের মেধা ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন করে একটি মেধাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হচ্ছে।
