চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে (চাকসু) দুই প্রতিনিধির ওমরাহ হজ্বে যাওয়া নিয়ে আরবি সাহিত্য বিভাগের পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিভাগীয় সূত্রে জানা যায়, আরবি বিভাগের দুইজন শিক্ষার্থী ওমরা হজ্ব করতে যান। তারা চাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধি। একজন হলেন সহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক হারেজুল ইসলাম এবং অন্যজন সহ-সহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক জিহাদ হোসাইন। তাই গেল ২৬ নভেম্বর আরবি বিভাগের স্নাতকোত্তর ফাইনাল পরীক্ষার তারিখ পুননির্ধারণ করা হয়। পূর্বের সময়সূচী প্রকাশিত হলে সেখানে দেখা ৪ ডিসেম্বর থেকে পরীক্ষা শুরু কথা রয়েছে। তবে সেই পরীক্ষার তারিখ পুননির্ধারণ করা হয়। নতুন সময়সূচী অনুসারে পরীক্ষা শুরুর তারিখ ৩ দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়। ফলে আগামী ৭ ডিসেম্বর থেকে পরীক্ষা শুরুর কথা রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে বিভাগের একজন মাস্টার্সের শিক্ষার্থী বলেন, ‘বিভাগের পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ার মূল কারণ হলও দুইজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হজ্বে যাবেন। তারা ওমরা হজ্ব করতে যাবেন। তাই আমরা কিছুটা বিপাকে পড়েছি। কেবল দুইজন শিক্ষার্থী কথা বিবেচনা করে পরীক্ষার তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা কোনও কথা হতে পারে না।’
আরবি বিভাগের মাস্টার্সের ব্যাচ প্রতিনিধি মো. মাসুম রানা বলেন, ‘আমাদের ব্যাচের দুজন শিক্ষার্থী গত ২৩/২৪ তারিখে হজ্জ করতে যান। আমাদের পরীক্ষা শুরুর কথা ছিল ৪ ডিসেম্বর থেকে। কিন্তু তারা হজ্জ থেকে আসতে ৪ ডিসেম্বর হয়ে যাবে। তাই তারা পরীক্ষা পিছানোর জন্য বিভাগীয় প্রধান ও পরীক্ষা কমিটির কাছে আবেদন করেছিল। পরীক্ষা কমিটি পুরো বিষয়টি ব্যাচের উপর ছেড়ে দিয়েছিল। বিষয়টি ব্যাচের গ্রুপে আলোচনা হয়। সবাই মতামত দিয়েছিল। অধিকাংশ শিক্ষার্থীর মত ছিল আগামী ২৬ জানুয়ারির মধ্যে যদি সকল পরীক্ষা শেষ করা হয় তবে মাঝের দুই একটি পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করলে কোন সমস্যা হবে না, এমনই মতামত দিয়েছিল অধিকাংশ শিক্ষার্থী। তবে পরীক্ষা পিছানোর বিরোধিতাও করেছেন অনেকে।’
আরবি বিভাগের মাস্টার্স ব্যাচের শিক্ষার্থী রাফসান রাকিব বলেন, ‘আমাদের দুজন বন্ধু পরীক্ষা পেছানোর জন্য বিভাগে কথা বলেছিল। কিন্তু শুরুতেই ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এতে রাজি ছিল না। ফলে তারাও বিষয়টি মেনে নেয়। কিন্তু বিভাগ থেকে পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা আসলে তাদের কারণে নয়, বরং সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা আছে, তাই পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন তালুকদার বলেন, ‘বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে পরীক্ষার তারিখ পুননির্ধারণ করা হয়েছে। সবাই এতে সায় দিয়েছে। এতে কারো কোনও ক্ষতি হওয়ার কথা না। তাছাড়া সবার মতামতের ভিত্তিতে যেহেতু কাজটা হয়েছে তাতে কারো কোনও সমস্যা নেই বলে আমি মনে করি। প্রতিটি বিভাগেই তো ছাত্রদের সুবিধা অসুবিধা বিবেচনা করে পরীক্ষার তারিখ এদিক-সেদিক করা হয়।’
আরবি বিভাগের স্নাতকোত্তর ফাইনাল পরীক্ষা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন অধ্যাপক ড. আবস সা'দাত মুহাম্মদ আবদুল মান্নান চৌধুরী। মুঠোফোনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমাদের বিভাগের তৃতীয় বর্ষ, চতুর্থ বর্ষসহ অন্যান্য বর্ষের পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনা রেখেছি। এই পরীক্ষার মধ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা হবে আমাদের ক্যাম্পাসে। তাই সামগ্রিক বিষয়ে বিবেচনা করে আমরা পরীক্ষা পিছিয়ে দিয়েছি। কিন্তু দুই শিক্ষার্থী কেবল মৌখিকভাবে তাদের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে জানিয়েছেন।
জানতে চাইলে সহ-সহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক জিহাদ হোসাইন বলেন, ‘হজ্জে যাওয়ার জন্য আমি পরীক্ষা পিছিয়ে দিয়েছি এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্য প্রণীত প্রচার। আমি বিভাগে এটা স্পষ্ট করেছি যে প্রয়োজনে আমি এক বিষয় পরীক্ষা দিবো না। তারপরও যেন পরীক্ষা পিছানো না হয়। দুই একজনের জন্য যেন সবার কষ্ট না হয়।’
মুঠোফোনে চাকসুর সহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক হারেজুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও যোগাযোগ সম্ভব হয় নি।
