জুলাই বিপ্লবের দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও অনেক খুনি এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। খুনিদের বিচারের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি চোখে পড়ে না। একজন শহীদের মা হিসেবে এটি আমার জন্য গভীর বেদনার। জুলাই বিপ্লবের খুনিদের দৃশ্যমান শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
-এ কথা বলেন জুলাই বিপ্লবের শহীদ ফয়সাল হোসেন শান্তর মা মোসম্মা কোহিনুর আক্তার।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার অফিস ও মানবাধিকার সংগঠন ‘সোচ্চার’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
বুধবার (০৩ নভেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের অডিটোরিয়ামে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে শহীদ ফয়সালের মা বলেন, খুনি হাসিনার নির্দেশে আমার ছেলে ফয়সালের মতো হাজারো সন্তানকে হত্যা করা হয়েছে। জুলাই বিপ্লবের দেড় বছর পার হলেও অনেক খুনি এখনও ধরা পড়েনি। বিচার হচ্ছে না—এটা একজন শহীদের মায়ের জন্য অসহনীয় কষ্ট।”
তিনি আরও বলেন, “আমার ছেলে ফয়সালের অনেক স্বপ্ন ছিল। সে পড়াশোনা করে বিদেশে যেতে চেয়েছিল, দেশের জন্য কিছু করতে চেয়েছিল। তাকে শহীদের মর্যাদা দিয়ে আল্লাহ তায়ালা আমাকে যে নিয়ামত দিয়েছেন, সেটি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান।”
জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “জুলাই বিপ্লবের সব খুনির সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ যেন কার্যকর ভূমিকা রাখে। খুনিদের বিচার না হলে জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মা শান্তি পাবে না।”
‘ডিসেমিনেশন অ্যান্ড ডিসকাশন অন দ্য ইউএন ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং’ শীর্ষক এ সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াহইয়া আখতার।
জুলাই বিপ্লবের শহীদ ফয়সাল হোসেন শান্তর গ্রামের বাড়ি বরিশালে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় গুলিতে তিনি শহীদ হন। শহীদের মা কোহিনুর আক্তার বর্তমানে চট্টগ্রামের জামালখানের সিএমপি স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষকতা করছেন।
