ফেনীতে ১৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:৩২ পিএম

ফেনী জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে একের পর এক চুরির ঘটনায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাতে সদর উপজেলার কাজিরবাগ ইউনিয়নের গিল্লাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-এ চুরি করার সময় আরিফ উদ্দিন বাহার (৩৫) নামে এক চোরকে পুলিশ ধরেছে। এ পর্যন্ত পুরো জেলায় মোট ১৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি হয়েছে।

দুর্বৃত্তরা অফিস ও শ্রেণিকক্ষের দরজা-জানালা ভেঙে প্রয়োজনীয় নথিপত্র, ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, সিলিং ফ্যান, টেবিল ফ্যান, সৌরবিদ্যুৎ ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক তার, ঘড়ি, ঘণ্টা, হারমোনিয়াম, সাউন্ড সিস্টেম, প্রিন্টার, ওয়াইফাই রাউটার, হ্যান্ড মাইক, পানির ট্যাপ, রাইস কুকার, ম্যাজিক চুলা, বিভিন্ন আসবাবসহ গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র এবং নগদ টাকা চুরি করেছে। এ অবস্থায় বিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা।

ফেনী সদর উপজেলার মধ্য চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহানারা বেগম জানান, প্রতিদিন ক্লাস শেষে দরজা-জানালা বন্ধ করে চলে যান। পরেরদিন দরজা ভাঙা অবস্থায় চুরি হয়েছে জানতে পেরে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তিনি আরও জানান, বিদ্যালয়ের ভবনগুলো দীর্ঘদিনের পুরোনো হওয়ায় জরাজীর্ণ। দরজা-জানালার দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে প্রায়ই চুরির ঘটনা ঘটে। এর আগেও পাশের স্কুলে একাধিকবার চুরি হয়েছে এবং মূল্যবান সামগ্রী হারাতে হয়েছে। বিষয়টি বারবার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।

গত ১ নভেম্বর থেকে ২৭ নভেম্বরের মধ্যে ফেনী সদর উপজেলার মালীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাছিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুবলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তেতৈয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম ফাজিলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কেরোনিয়া শহীদ স্মৃতি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-এর অফিসকক্ষ ভেঙে প্রতিটি স্কুলের একটি করে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, রাইডার ও নগদ টাকা চুরি হয়েছে।

দক্ষিণ লেমুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তালা কেটে চারটি সিলিং ফ্যান এবং পানির মোটর চুরি হয়েছে। কয়েকটি বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী থাকলেও চুরি ঘটেছে। সদর উপজেলায় ১১৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৪টিতে নৈশপ্রহরী রয়েছে।

সোনাগাজী উপজেলার ছাড়াইতকান্দি, রাঘবপুর ও আড়কাইম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ মোট পাঁচটি বিদ্যালয় থেকেও শিক্ষাসামগ্রী চুরি হয়েছে।

ফুলগাজী উপজেলার পূর্ব দরবারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-এর দোতলার চতুর্থ শ্রেণির কক্ষ থেকে সিলিং ফ্যান খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় একটি পকেট গেটও ভেঙে নিয়ে যায় তারা। দাগনভূঞা উপজেলার রামনগর তাকিয়াবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেও ল্যাপটপ ও প্রজেক্টর চুরি হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা।

গোহাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও প্রাথমিক শিক্ষক কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব মহিউদ্দিন খন্দকার বলেন, “ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় আমরা শঙ্কিত। যে কোনো দিন আমাদের স্কুলেও একই ঘটনা ঘটতে পারে।”

ফেনী সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খালেদা পারভীন বলেন, “উপজেলার ১১৩টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৬টিতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য ২৮ নভেম্বর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে চুরি হওয়া বিদ্যালয়গুলোর তালিকা পাঠানো হয়েছে।”

ফেনী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সজল কান্তি দাস বলেন, “উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী না থাকায় চুরির ঘটনা ঘটছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাজিরবাগ চেকপোস্টে একজন চোরকে গতকাল আটক করা হয়েছে।”

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজ আহাম্মদ বলেন, “যে কোনো বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটলে প্রধান শিক্ষক থানায় অভিযোগ করবেন এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করবেন।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত