পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনিরকে দেশের প্রথম চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস (সিডিএফ) হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। শুক্রবার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে নিয়োগ দেয়।
এর একদিন আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের পরামর্শে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এই নিয়োগ অনুমোদন করেন।
আনুষ্ঠিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘পাকিস্তানের সংবিধান ১৯৭৩-এর ধারা ২৪৩ এবং পাকিস্তান আর্মি অ্যাক্ট-এর ধারা ৮এ অনুযায়ী প্রদত্ত ক্ষমতাবলে, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে প্রেসিডেন্ট ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনিরকে সেনাবাহিনীর প্রধান এবং একই সঙ্গে চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস হিসেবে পাঁচ বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’
মন্ত্রণালয় আলাদা একটি বিজ্ঞপ্তিতে বিমানবাহিনী প্রধানের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশে প্রেসিডেন্টের সম্মতি নিশ্চিত করেছে।
তাতে বলা হয়, ‘পাকিস্তানের সংবিধান ১৯৭৩-এর ধারা ২৪৩ এবং পাকিস্তান এয়ার ফোর্স অ্যাক্ট ১৯৫৩-এর ধারা ১০বি অনুযায়ী প্রদত্ত ক্ষমতাবলে, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে প্রেসিডেন্ট এয়ার চিফ মার্শাল জাহির আহমেদ বাবরের দায়িত্ব আরও দুই বছরের জন্য ১৯ মার্চ ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার শর্তে বর্ধিত করতে সন্তুষ্ট হয়েছেন রাষ্ট্রপতি।’
এ বর্ধিত মেয়াদ আগামী বছরের মার্চে তার বর্তমান পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কার্যকর হবে, ফলে তিনি মার্চ ২০২৮ পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন।
১৯৭০-এর দশকের পর সামরিক কাঠামোয় সবচেয়ে বড় পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে সেনাপ্রধানকে প্রথমবারের মতো সিডিএফ করা হলো।
নতুন ব্যবস্থায় সংবিধানের ধারা ২৪৩-এর ২৭তম সংশোধনের মাধ্যমে গঠিত একক কার্যালয়ের অধীনে অপারেশনাল, প্রশাসনিক এবং কৌশলগত ক্ষমতা একীভূত করা হয়েছে।
সংশোধিত ধারা ২৪৩ অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে সেনাবাহিনী প্রধানকে নিয়োগ দেবেন, যিনি একই সঙ্গে চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
সংশোধনের মাধ্যমে চেয়ারম্যান জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটি পদটি বিলুপ্ত করা হয়েছে—যা ১৯৭৬ সাল থেকে বিদ্যমান ত্রি-সেবা সমন্বয় কাঠামোকে ভেঙে দিয়েছে। যৌথ কমান্ডের দায়িত্ব এখন থেকে সিডিএফের অধীনে থাকবে।
এক্স-এ দেওয়া পোস্টে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ আবারও ফিল্ড মার্শাল মুনিরকে তার ‘ঐতিহাসিক’ নিয়োগের জন্য অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তার প্রহরী হিসেবে তার নেতৃত্ব আমাদের সাহসী সশস্ত্র বাহিনীকে সত্যের যুদ্ধে নির্ণায়ক বিজয়ের দিকে নিয়ে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পাকিস্তানের জনগণ সর্বদা স্মরণ রাখবে যে যুদ্ধকালীন তার সাহসী ও দৃঢ় নেতৃত্ব সশস্ত্র বাহিনীকে ঐক্যবদ্ধ করেছে, পুরো জাতিকে উদ্বুদ্ধ করেছে এবং আমাদের মাতৃভূমির জন্য ঐতিহাসিক বিজয় নিশ্চিত করেছে।’
শাহবাজ বিমানবাহিনী প্রধানকেও অভিনন্দন জানান। ভারতের সঙ্গে মে মাসের সংঘাতের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ‘তার অনন্য নেতৃত্বে পাকিস্তান বিমানবাহিনী সাতটি শত্রু বিমান এবং অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে অসামান্য পেশাদারিত্বের সঙ্গে এবং পাকিস্তানের আকাশসীমার আধিপত্য আরও সুদৃঢ় করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সমস্ত জাতীয় প্রতিষ্ঠান পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা, উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধির জন্য ঐক্যবদ্ধ। একসঙ্গে আমরা দেশকে প্রকৃত অর্থেই অজেয় করে তুলব।’
প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফও ফিল্ড মার্শাল মুনির এবং এয়ার চিফ মার্শাল বাবরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
তিনি এক্স-এ পোস্ট করে বলেন, যারা জাতিকে ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ এনে দিয়েছেন, জাতি আজ তাদের ‘অসীম সেবার’ স্বীকৃতি হিসেবে সম্মান জানাচ্ছে।
