তুরস্কে জুয়া কেলেঙ্কারিতে জাতীয় লিগের খেলোয়াড় ও ক্লাব কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:১৫ পিএম

ঘুষ কেলেঙ্কারি ঘিরে তুরস্কের ফুটবল অঙ্গন বড় ধরনের আলোড়ন তৈরী হয়েছে। শুক্রবার ভোরে অভিযান চালিয়ে দেশটির শীর্ষ ক্লাবগুলোর একাধিক ফুটবলার ও কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে রয়েছেন ফেনেরবাচের মের্ত হাকান ইয়ানদাস এবং বর্তমান চ্যাম্পিয়ন গালাতাসারায়ের মেটেহান বালতাচি।

ইস্তাম্বুলের প্রসিকিউটর অফিস জানায়, জুয়া কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মোট ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ভোরের অভিযানে এখন পর্যন্ত ৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে আঙ্কারাস্পোরের চেয়ারম্যান, আন্তালিয়াস্পোরের ভাইস-চেয়ারম্যান এবং আদানা দেমিরস্পোরের সাবেক চেয়ারম্যানও রয়েছেন।

গত অক্টোবরেই তুর্কিশ ফুটবল ফেডারেশন পেশাদার লিগের ১৫০ জনের বেশি রেফারির বিরুদ্ধে ম্যাচে জুয়ার অভিযোগে তদন্ত শুরু করে। এরপর তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়—যেখানে খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, টিভি ধারাভাষ্যকারসহ বহুজনকে শনাক্ত করা হয়। গত মাসে শীর্ষ লিগসহ বিভিন্ন স্তরের ১০০–এর বেশি ফুটবলারকে অস্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হয়।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডিএইচএ জানায়, সাবেক রেফারি ও পরিচিত ধারাভাষ্যকার আহমেত চাকির এবং বর্তমান রেফারি জোরবাই কুচুককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের দাবি, গালাতাসারায়ের তরুণ ডিফেন্ডার বালতাচি নিজের দলের ম্যাচেই বেটিং করতেন। আর ইয়ানদাস তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বেটিং করতেন বলে অভিযোগ।

বালতাচি, কুচুকসহ সাতজনের ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন পাওয়া গেছে। আইন অনুযায়ী, পেশাদার লিগে ম্যাচ ফিক্সিং বা বেটিংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগে এক থেকে তিন বছরের জেল হতে পারে—যদি বিষয়টি জুয়াট বাজার, কর্মকর্তা বা পেশাদার লিগের ওপর প্রভাব ফেলে তবে সাজা আরও বাড়তে পারে।

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ম অনুযায়ী, খেলোয়াড়, রেফারি এবং ক্লাব কর্মকর্তাদের কোনো পর্যায়ের ম্যাচে বেটিং করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

তুরস্ক ফুটবলের এই কেলেঙ্কারি দেশটির পেশাদার লিগে স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত