মিয়ানমারে চায়ের দোকানে বিমান হামলায় নিহত ১৮

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:৩৫ এএম

মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলীয় তাবাইন শহরে চায়ের দোকানে দেশটির সামরিক জান্তা বাহিনীর বিমান হামলায় ১৮ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও কমপক্ষে ২০ জন। জনাকীর্ণ ওই দোকানে তখন লোকজন টেলিভিশনে বক্সিং ম্যাচ দেখছিল। 

শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে জান্তার বিমান থেকে ওই হামলা চালানো হয়। শনিবার স্থানীয় এক উদ্ধারকর্মী ও দুই বাসিন্দা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জান্তার বিমান হামলায় হতাহতের এই তথ্য জানায়।

২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে অং সান সু চি নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত বেসামরিক সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে গৃহযুদ্ধ চলছে। দেশটির সামরিক বাহিনী বিদ্রোহীদের দমনে ব্যাপক রক্তক্ষয়ী অভিযান পরিচালনা করছে। এসব অভিযানে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নৃশংসতা চালানোর অভিযোগ উঠলেও জান্তা বাহিনী বরাবরই তা অস্বীকার করে আসছে।

শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে দেশটির স্যাগাইং অঞ্চলের তাবাইন শহরে জান্তার বিমান থেকে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে দু’টি বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এর মধ্যে একটি বোমা ব্যস্ত সময়ে সেখানকার চায়ের দোকানে পড়ে।

স্থানীয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ১৮ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, হামলার সময় চায়ের দোকানে ব্যাপক ভিড় ছিল। যে কারণে প্রাণহানির সংখ্যা বেশি বলে জানিয়েছেন তিনি।

হামলায় প্রাণে বেঁচে যাওয়া এক ব্যক্তি বলেন, তিনি চায়ের দোকানে বসে টেলিভিশনে বক্সিং ম্যাচ দেখছিলেন। ঠিক সেই সময়ই বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। বিমানের শব্দ শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমি মাটিতে শুয়ে পড়ি। বিস্ফোরণের শব্দ ছিল অত্যন্ত তীব্র।

তিনি বলেন, আমার মাথার ওপর আগুনের শিখা দেখেছিলাম...ভাগ্য ভালো যে আমি বেঁচে গেছি। এরপরই বাড়ি ফিরে যাই।

শনিবার স্যাগাইংয়ে নিহতদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় আরেক বাসিন্দা বলেন, কিছু মৃতদেহের মুখ চেনা যাচ্ছিল না বলে তোয়ালে দিয়ে ঢেকে রাখা হয়।

মিয়ানমারে গত মে মাসে জান্তার বিমান হামলায় ২২ জন প্রাণ হারান, যাদের ২০ জনই ছিল শিশু। দেশটিতে ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানার পর ঘোষিত কথিত যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এ হামলা চালানো হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত