হিলিতে পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ৩০ টাকা 

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:৪১ পিএম

দেশীয় পেঁয়াজের মৌসুম শেষ হওয়ায় সরবরাহ কমে হঠাৎ পেঁয়াজের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে পুরোপুরি অস্থিতিশীল হয়ে উঠে। দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের পেঁয়াজ আমদানির অনুমতির খবরে দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে একদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ৩০টাকা। ভারত থেকে আমদানি শুরু হলে দাম আরো কমবে দাবি আমদানিকারক ও বিক্রেতাদের। আগের চেয়ে পেঁয়াজের দাম কমায় খুশি ক্রেতারা তবে দাম যেন আরো কমে সেই দাবি তাদের। 

রবিবার (৭ ডিসেম্বর) সরেজমিনে হিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে প্রতিটি দোকানেই দেশীয় নতুন ও পুরানো পেঁয়াজের যথেষ্ট সরবরাহ লক্ষ্য করা গেছে। সেই সঙ্গে দাম কিন্তু আগের তুলনায় কমতে শুরু করেছে। গতকাল যে দেশীয় পুরানো পেঁয়াজ ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল আজ তা কমে ১শ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও আজ তা কমে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। 

হিলি বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা হায়দার আলী বলেন, গতকালকেই পেঁয়াজ কিনলাম পুরানো পেঁয়াজ ১৩০টাকা কেজি আর নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ ছিল ১১০ টাকা কেজি। যেই ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার সেই একদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৩০ টাকা করে কমে গেছে। আজ পুরানো পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১শ টাকা কেজি দরে আর নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে। এখনো পেঁয়াজ আসেইনি তাতেই এই দামের অবস্থা আর আসলে কি হবে। এর মধ্য দিয়ে একটা জিনিস পরিষ্কার বাজারে সরবরাহের কোন বিষয় নেই সব ব্যবসায়ীদের কারসাজি তারাই ইচ্ছে করে দাম বাড়িয়ে গরীবের পকেট কাটছিল এতদিন। আমাদের তো আয় রোজগার সীমিত এর উপর ১৩০ টাকা দিয়ে পেঁয়াজ কিনে খাওয়া সমস্যা। বাড়তি দামের কারনে আমাদের পেঁয়াজ কিনতে সমস্যা হচ্ছিল বাধ্য হয়ে চাহিদার চেয়ে কম কিনতে হচ্ছিল এখন দাম কমার জন্য কিছুটা সুবিধা হয়েছে। দাম যেন আরো কমে তাতে করে আমাদের মত মানুষদের সুবিধা হয়।  

পেঁয়াজ ক্রেতা আব্দুল খালেক বলেন, পেঁয়াজের যে দাম উঠে গিয়েছিল তাতে করে আমাদের মত মানুষদের পেঁয়াজ কিনে খাওয়া বেশ কষ্টকর হয়ে দাড়িয়েছিল। পুরানো পেঁয়াজ তো কেনাই যাচ্ছিলোনা নতুন পেঁয়াজ দাম কিছুটা কমের কারনে ওটিই কিনছিলাম তাও ছিল ১১০ টাকা কেজি। গতকাল ওই দামেই বাজার থেকে পেঁয়াজ ক্রয় করেছিলাম আজ কিনতে এসে দেখি দাম কম। একদিনের ব্যবধানে কেজিতে ৩০ টাকা কমে ৮০ টাকা কেজি দরে কিনলাম। ভারত থেকে পেঁয়াজ যদি আসা শুরু হয় দাম আরো কমে আসবে তাতে করে আমাদের জন্য সুবিধা হয় আমরা তখন চাহিদামত পেঁয়াজ কিনতে পারবো।  

হিলি বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা আবুল হাসনাত বলেন, দেশীয় পেয়াজের মৌসুম শেষের দিকে হওয়ায় বাজারে সররবাহ কমায় দাম উদ্ধমুখি হতে শুরু করেছিল। কিন্তু একদিনের ব্যবধানে সবধরনের পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৩০ টাকা করে কমে গেছে। গতকাল পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমন খবরে মোকামে পেঁয়াজের সরবরাহ আগের তুলনায় বেড়ে যাওয়ায় দাম কমতির দিকে রয়েছে। বিশেষ করে যেসব মজুতদার পেঁয়াজ মজুদ করে রেখেছিলেন তারা এখন পেঁয়াজ ছাড়তে শুরু করেছেন। এছাড়া যেসব কৃষক বাড়তি দামের আশায় বিক্রি করছিলেননা তারাও এখন পেঁয়াজ ছাড়তে শুরু করেছেন। মূলত ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হলে দেশীয় পেঁয়াজের চাহিদা কমে যাবে তাতে করে দাম কমে যাবে এই কারনে সকলে পেঁয়াজ ছেড়ে দিচ্ছেন। ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি শুরু হলে বাজারে যখন আসবে সেসময়ে পেঁয়াজের দাম আরো কমে আসবে। ভারতীয় পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬০টাকার মধ্যে নেমে আসবে বলে আশা করছি আমরা।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক শহিদুল ইসলাম বলেন, কিছু অসাধু মুনাফালোভী ব্যবসায়ীর কারনে পেঁয়াজের দাম হুহু করে বাড়ছিল। সরকার দেশীয় কৃষকের স্বার্থ বিবেচনা করে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেয়নি। তাদেরকে ৮০ টাকার মধ্যে দাম রাখার কথা বলেছিল কিন্তু তারা দাম বাড়াতে বাড়াতে ১৬০ টাকায় নিয়ে গিয়েছিল। যা সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে চলে গিয়েছিল। সরকার যে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়ার সিন্ধান্ত নিয়েছে এটি খুব ভালো উদ্যোগ। ইতোমধ্যেই এই খবরেই কিন্তু পেঁয়াজের দাম বেশ কিছুটা কেটেছে আমদানি শুরু হলে দাম আরো কমে আসবে। ইতোমধ্যেই আমরা আমদানির অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছি সেই সঙ্গে আমদানির সকল প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করেছি। আমদানির অনুমতি পেলেই এলসি খুলে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করবো। তাতে করে আগামীকাল হয়তোবা পেঁয়াজ আমদানি শুরু হতে পারে। তবে সরকার যে পরিমাণ আইপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটি আরো বাড়ানো দরকার সেই সঙ্গে পর্যায়ক্রমে সকল আমদানিকারক আমদানির অনুমতি পায় এক্ষেত্রে কোন বৈষম্য না হয় সেবিষয়টি দেখার অনুরোধ করছি। আর পেঁয়াজ আমদানি শুরু হলে দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকায় নেমে আসবে পেঁয়াজের দাম নিয়ে যে অস্থিরতা সেটি কেটে যাবে।  

অপর আমদানিকারক মোবারক হোসেন বলেন, সরকার প্রতিদিন ৫০ জন করে আমদানিকারককে আমদানির অনুমতি দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটি বাস্তবায়ন হলে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রনে আনা তেমন একটা সম্ভব হবেনা। ভারতে পেঁয়াজের দাম কম রয়েছে সেখানে ৮ থেকে ১৫ রুপির মধ্যে পেঁয়াজের দাম রয়েছে। সেক্ষেত্রে যদি প্রতিদিন ৫০জন আমদানিকারককে ১হাজার ৫শ টন আমদানির অনুমতি না দিয়ে সেটি দ্বিগুন করে দেয়। তা যেন প্রকৃত পেঁয়াজ আমদানিকারকদের দেওয়া হয় তাহলে বাজার নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। কিন্তু যেভাবে আজ থেকে ৫০ জন পেঁয়াজ আমদানিকারককে আমদানির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে সেখানে প্রকৃত পেঁয়াজ আমদানিকারকরা কেউ অনুমতি পাচ্ছেনা। এতে করে এই প্রক্রিয়া আবারো কোন সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। এভাবে যদি হয় তাহলে পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনা কোনভাবেই সম্ভব হবেনা।  

হিলি স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপসহকারী সংগনিরোধ কর্মকর্তা ইউসুফ আলী বলেন, দেশীয় কৃষকের স্বার্থ বিবেচনা করে সরকার পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রাখে। ফলে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে সর্বশেষ ৩০শে আগস্ট ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল। এর পর থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। সম্প্রতি পেঁয়াজের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠলে সীমিত পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। প্রতিদিন ৫০জন আমদানিকারককে ৩০ টন করে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়ার কথা জানিয়েছে। সে মোতাবেক আজ ৫০ জন ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে আবেদন গ্রহণ করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কাওকে কোন আমদানির অনুমতি প্রদান করেননি। আমদানির অনুমতি পেলে এলসি খোলার পর ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে পারবেন আমদানিকারকরা। আর ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হলে আমদানিকৃত পেঁয়াজ পরীক্ষা করে দ্রুত সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে। এরপরেই আমদানিকারকরা বন্দর থেকে যেসব পেঁয়াজ খালাস করে বাজারে ছাড়তে পারবেন। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত