যশোরে মধ্যরাতে তানভীরকে ছুরিকাঘাত করে হত্যার ঘটনায় পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বাবুলসহ ৮জনের বিরুদ্ধে রবিবার (৭ ডিসেম্বর) বিকেলে কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। মামলাটি করেছেন নিহত তানভীরের পিতা নাজির শংকরপুর এলাকার মিন্টু। এই হত্যার নির্দেশদাতা বাবুলের নাম মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও মামলায় অজ্ঞাত আরও ৪/৫জনকে আসামি করা হয়েছে ।
এ মামলায় শনিবার (৬ ডিসেম্বর) মধ্যরাতেই চোপদারপাড়ার রবিউল ইসলামের ছেলে রাকিবুল ইসলাম স্বাক্ষর ও চোপদারপাড়ার বেলায়েত আলীর ছেলে সোনা মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। পলাতক আসামিরা হলেন একই এলাকার আব্দুল্লাহর ছেলে অভি, মজিবরের ছেলে মানিক এবং শংকরপুরের আল আমিন।
মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, তানভীর হাসান আগে মোটরসাইকেল গ্যারেজে কাজ করতেন এবং সর্বশেষ তিনি রাজমিস্ত্রির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এর আগে তানভীরের বন্ধু আফজাল খুন হন। ওই খুনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল বাবুলসহ অন্য আসামিরা। আফজাল হত্যা নিয়ে তানভীর প্রতিবাদ করে আসছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বাবলুসহ অন্য আসামিদের সঙ্গে শত্রুতা চলছিল। এর জেরে শনিবার রাত ১০টার দিকে বাবুল কাউন্সিলরের নেতৃত্বে অন্য আসামিরা তানভীরের বাড়িতে যান। তানভীরকে না পেয়ে তারা ভাঙচুর চালায় এবং হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যান। রাত সাড়ে ১২টার দিকে শংকরপুর আনসার ক্যাম্পের পেছনে একা পেয়ে বাবুল কাউন্সিলরের নেতৃত্বে অন্য আসামিরা একের পর এক ছুরিকাঘাত ও চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তানভীরকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আলমগীর হোসেন জানান, দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রবিবার সন্ধ্যার পর আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
