ভারত

নাইটক্লাবে মধ্যরাতের আগুনে ২৩ জনের প্রাণহানি

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:২৯ পিএম

ভারতের গোয়ার উপকূলীয় এলাকার জনপ্রিয় এক নাইটক্লাবে আগুন লেগে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। গোয়ার উত্তরে আরপোরা এলাকার ওই ক্লাবে যারা মারা গেছেন, তাদের বেশিরভাগ ক্লাবটির কর্মী। আর বাকিরা পর্যটক।

পুলিশ মনে করছে, ক্লাবটির রান্নাঘরে রাখা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকেই স্থানীয় সময় শনিবার মধ্যরাতে এই অগ্নিকাণ্ডের সূচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক মাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে গোয়ার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে গভীর দুঃখজনক উল্লেখ করেছেন।

গোয়া পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল অলোক কুমার বলেছেন, আগুন প্রধানত নিচতলায় ক্লাবের রান্নাঘরের আশেপাশেই সীমাবদ্ধ ছিল। মধ্যরাতে আগুনের এই ঘটনা ঘটে, এখন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। রান্নাঘরের আশেপাশেই বেশিরভাগ মৃতদেহ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। নিহতদের বেশিরভাগ ওই ক্লাবেরই কর্মচারী।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক খবরে বলা হয়েছে, গোয়ার উপকূলীয় একটি এলাকার খুবই জনপ্রিয় সৈকত সংলগ্ন বাগায় বার্চ বাই রোমিও লেন নামক ক্লাবে দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশকে উদ্ধৃত করে পত্রিকাটি বলেছে, কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে আগুনে পুড়ে, আর অনেকের মৃত্যু হয়েছে দমবন্ধ হয়ে। দুর্ঘটনাটি যখন ঘটে তখন ক্লাবের ভেতর ব্যাপক সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সামাজিক মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে রোববার ভোর পর্যন্ত উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত ছিল।

গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রামদ সায়ন্ত সাংবাদিকদের বলেছেন, তিন জন আগুনে পুড়ে মারা গেছেন, আর বাকিরা মারা গেছেন দমবন্ধ হয়ে। এছাড়া অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তিন-চারজন পর্যটকও নিহত হওয়ার তথ্য দিয়েছেন তিনি। তবে তাদের বয়স ও জাতীয়তা এখনো জানা যায়নি।

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিহতদের প্রতি পরিবারকে দুই লাখ রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। আর আহতরা পাবেন ৫০ হাজার রুপি করে।

আরব সাগরের তীরে গোয়া এক সময় পর্তুগিজ কলোনি ছিল। এর নাইট লাইফ, বালুময় সৈকত এবং রিসোর্টগুলোতে প্রতিবছর লাখ লাখ পর্যটক আসে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথমার্ধে ৫৫ লাখ পর্যটক গোয়ায় এসেছেন। এর মধ্যে ২ লাখ ৭০ হাজার এসেছে বিদেশ থেকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত