মুক্ত দিবস আজ

৮ ডিসেম্বর ১৯৭১: বিজয়ের ভোরে জেগে ওঠা কুমিল্লা শহর

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:৪১ পিএম

আজ ঐতিহাসিক ৮ ডিসেম্বর কুমিল্লা মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ পর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত হয় শহরটি। ভোরে সূর্য উঠার আগে বিজয়ের উচ্ছ্বাসে রাস্তায় নেমে আসে শহর ও গ্রামের শত শত মানুষ। 

জানা গেছে, ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে ভারতীয় মিত্রবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধারা তিনদিক থেকে আক্রমণ চালান কুমিল্লা বিমানবন্দরে থাকা পাক বাহিনীর ২২ বেলুচ রেজিমেন্টের প্রধান ঘাঁটিতে। আক্রমণের নেতৃত্ব দেন মিত্রবাহিনীর ১১ গুর্খা রেজিমেন্টের লেফটেন্যান্ট কর্নেল আর কে মজুমদার। আকস্মিক হামলায় টালমাটাল হয়ে পড়ে পাকিস্তানি বাহিনী। শক্তি বাড়াতে ময়নামতি সেনানিবাস থেকে অতিরিক্ত সেনা ও গোলাবারুদ আনার চেষ্টা চালায় তারা। কিন্তু মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর গেরিলাদের যৌথ আক্রমণের তীব্রতা তাদের প্রতিরোধ ভেঙে দেয়। শেষ রাতে পাকসেনারা দ্রুত প্রতিরক্ষা ব্যূহ ত্যাগ করে ময়নামতি ও বরুড়ার দিকে পালিয়ে যায়।

ভোরের আলোয় ফুটার আগেই থেমে যায় রাতভর চলা গোলাগুলির শব্দ। নেউরা, রাজাপাড়া, ঢুলিপাড়া, লক্ষ্মীপুর ও চৌয়ারা এলাকার মানুষ তখন রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে। এয়ারপোর্ট এলাকার বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকতে দেখা যায় পাকিস্তানি সেনাদের মরদেহ।

নেউরার  স্থানীয় বাসিন্দা সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধ মোস্তফা মিয়া বলেন, সেদিন সকালেই দেখি এয়ারপোর্ট এলাকায় পাকিস্তানি সেনাদের মরদেহ পড়ে আছে। যে ভয়ঙ্কর রাতটা কেটেছে ভোরের আলোর সঙ্গে মনে হলো কুমিল্লা নতুনভাবে শ্বাস নিচ্ছে।

ঝাউতলা এলাকার বৃদ্ধা আছিয়া খাতুন স্মৃতিচারণ করে বলেন, রাতভর গোলাগুলির শব্দে এলাকা কেঁপে ওঠে। ভোরে দেখি মানুষজন রাস্তায় নেমে এসেছে-কেউ কাঁদছে, কেউ হাসছে-সবাই বুঝে গেছে কুমিল্লা মুক্ত।

ইতিহাসের বর্ণনা অনুযায়ী, লেফটেন্যান্ট দিদারুল আলমের নেতৃত্বে একদল মুক্তিযোদ্ধা বিবির বাজার দিয়ে ঢুকে পড়ে। অপর দুটি দল গোমতী নদী পেরিয়ে ভাটপাড়া দিয়ে এবং বাঘেরচর দিক থেকে বিমানবন্দর ঘাঁটিতে আক্রমণ চালায়। রাতভর যুদ্ধে ২৬ মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। শেষপর্যন্ত পাক বাহিনী ঘাঁটি ছেড়ে পালিয়ে যায় এবং কয়েকজন আত্মসমর্পণ করে। ভোরেই বিমানবন্দরের প্রধান ঘাঁটি দখলে নেন মুক্তিযোদ্ধারা।

কুমিল্লা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার, বীর মুক্তিযোদ্ধা জহিরুল হক দুলাল বলেন, ৮ ডিসেম্বরের ভোরে কুমিল্লা হানাদারমুক্ত হয়। আমরা আগরতলা-সোনামুড়া দিয়ে পায়ে হেঁটে কুমিল্লায় ঢুকেছিলাম। নবম বেঙ্গলের মুক্তিযোদ্ধারা ছিলেন অগ্রবর্তী দলে। জনগণ আমাদের ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে বরণ করেছিল-সেই মুহূর্ত ভুলবার নয়। দিনের শেষ বিকেলে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করা হয়। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত