গাজীপুরের কালিয়াকৈরে রাতের আঁধারে পরিবারের ফেলে দেওয়া শিশুটির দায়িত্ব নিয়েছে স্থানীয় একটি পরিবার। এর আগে সোমবার সকালে উপজেলার বোর্ডঘর দাড়িয়াপুর এলাকায় এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার বোর্ডঘর দাড়িয়াপুর এলাকায় গত রবিবার রাতের কোনো একসময় ফুটফুটে একটি শিশুকে ফেলে যায় পরিবার। পর দিন ভোরে এলাকার বোর্ডঘর-উত্তর দাড়িয়াপুর সড়কের একটি ব্রিজের পাশে শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী। তার নাক, মুখ, চোখ, মাথাসহ পুরো শরীর বালুময় ছিল। পায়ে ছিল কোনো হাসপাতালের নাম্বার।
ধারণা করা হচ্ছে, কে বা কাহারা রাতে শিশুটিকে সেখানে ফেলে রেখে গেছে। শিশুটির বয়স আনুমানিক এক থেকে দুই দিন হবে। মুহূর্তের মধ্যে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ভাইরাল হয়ে যায়। আশপাশের লোকজন সেখানে ভিড় করেন। এর মধ্যে শিশুটিকে তুলে নেয় ওই এলাকার সালাম হোসেন ও তার পরিবার।
তাৎক্ষণিক শিশুটির প্রাথমিক চিকিৎসা, খাবার-দাবার ও পোশাকের ব্যবস্থা করে পরিবারটি। পরে তারা বিষয়টি কালিয়াকৈর থানা, স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ সবাইকে অবগত করেন। এদিকে তাদের পরিবারে আগে থেকেই ৪র্থ শ্রেণি পড়ুয়া সামিরা সুলতানা ও ১ম শ্রেণি পড়ুয়া সাবিলা নুর নামে দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। তারপরও নতুন অতিথিকে পেয়ে খুশি পরিবারের সবাই।
ওই শিশুর নতুন অভিভাবক সালাম হোসেন বলেন, সকালে হাঁটতে বের হলে ব্রিজের পাশে লোকজন দেখে এগিয়ে যাই। এ সময় শিশু দেখে স্থানীয় ইউপি সদস্যদের জানালে তারা থানায় অবগত করেন। পরে তাকে তুলে নিয়ে তার চিকিৎসাসহ অন্যান্য ব্যবস্থা করেছি। কিন্তু তার পরিবারের খোঁজ না পেয়ে তাকে আমরাই লালন-পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রশাসনসহ সবাই সমর্থন দিয়েছেন। আর ফুটফুটে নতুন অতিথি পেয়ে আমি, আমার দুই মেয়েসহ পরিবারের সবাই খুব খুশি হয়েছেন। আমরা যত্ন সহকারে তাকে মানুষের মতো মানুষ হিসেবে তৈরি করব।
কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ফখরুল ইসলাম জানান, ওই শিশুর বিষয়টি এখনো আমার জানা নেই। কিন্তু যে পরিবার তাকে লালন-পালন করছেন, নিশ্চয়ই প্রশংসনীয় কাজ করছেন। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
