দুই স্ত্রীর ঝগড়ায় অভিমান করে বাড়ি ছাড়া মোবারক হোসেন নিখোঁজ থাকার ৩৩ বছর পর বাড়ি ফিরেছিলেন। কিন্তু ফিরে আসার মাত্র এক মাসের মধ্যেই তিনি না–ফেরার দেশে চলে গেলেন।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিকেলে তিনি নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মোবারক হোসেনের বড় ছেলে জামাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পরশুরাম পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কোলাপাড়ার আলি আহমদের বড় ছেলে মোবারক হোসেন ১৯৯২ সালে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি।
স্বজনরা দীর্ঘদিন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে পরিবার পরশুরাম পৌরসভা থেকে তার একটি মৃত্যু সনদও সংগ্রহ করে।
৩৩ বছর আগে “ওসির বদলি হয়েছে—তার সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছি” বলে বেরিয়ে যাওয়া মোবারক গত ৮ নভেম্বর হঠাৎই বাড়ি ফিরে আসেন। দীর্ঘদিন পর বাবাকে ফিরে পেয়ে দুই স্ত্রীসহ দুই পরিবারের ছেলে–মেয়েরা আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠেন।
তারা অসুস্থ মোবারককে সর্বোচ্চ সেবা-শুশ্রূষা করছিলেন। তবে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগতে থাকা মোবারক বাড়ি ফেরার পর থেকেই শারীরিকভাবে দুর্বল ছিলেন। শেষ পর্যন্ত ৮৫ বছর বয়সে তিনি মারা যান।
মোবারক হোসেনের প্রথম স্ত্রী আঁখি আক্তারের সংসারে রয়েছে ৫ ছেলে ও ২ মেয়ে। দ্বিতীয় স্ত্রী আনোয়ারা বেগমের সংসারে আছে ৩ ছেলে ও ২ মেয়ে। দুই স্ত্রীর ঝগড়ায় অতিষ্ঠ হয়ে অভিমান থেকেই মোবারক ১৯৯২ সালে বাড়ি ছেড়ে চলে যান।
পরিবারের সদস্যরা পরে তাকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার রাজবাড়ি এলাকায় খুঁজে পান। বড় ছেলে জামাল উদ্দিনসহ স্বজনরা তাকে গত ৮ নভেম্বর বাড়িতে নিয়ে আসেন।
‘নিরুদ্দেশ মোবারক হোসেন তেত্রিশ বছর পর বাড়ি ফিরলেন’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর তাকে এক নজর দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনরা।
মোবারকের দ্বিতীয় স্ত্রী ও পরশুরাম সরকারি ডিগ্রি কলেজের কর্মচারী আনোয়ারা আক্তার বলেন, ‘তিনি নিখোঁজ হওয়ার পর সমাজের মানুষ নানা কথা বলত। মৃত্যুর আগে বাড়ি ফিরে আসায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি। তার কাছে ক্ষমা চেয়েছি, ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে। শেষ মুহূর্তে তার সঙ্গে কথা বলতে পেরেছি—এটাই আল্লাহর রহমত। এখন তার প্রতি কোনো অভিমান-অভিযোগ নেই।'
