র্যাব-১২ বগুড়া ক্যাম্পের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ১৭ কোটি টাকা মূল্যের সিগারেট এবং বিড়ির ব্যান্ডরোল ও প্রিন্টিংয়ের প্লেটসহ ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে র্যাব-১২ বগুড়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার ফিরোজ আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এরআগে সোমবার রাতে এ অভিযান শহরের পালশা চৌকির পাড় গ্রামস্থ রুহান প্রিন্টিং প্রেসে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন, বগুড়া সদরের বাঘোপাড়া দক্ষিণপাড়া এলাকার মো. মাহমুদুল হাসান মিলন (৪২) ও মো. রাশেদুল ইসলাম রনজু (৪২)।
র্যাব-১২ বগুড়া ক্যাম্প গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, বগুড়া সদরের পালশা চৌকির পাড় গ্রামস্থ রুহান প্রিন্টিং প্রেসে বিড়ি ও সিগারেটের নকল ব্যান্ডরোল, প্যাকেট, ফিল্টার, লেভেল তেরি করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বাজারজাত ও সরবরাহ করা হচ্ছে। যার ফলে সরকার কোটি কোটি টাকা মূল্যের রাজস্ব হারাচ্ছে। তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে ওই স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মো. মাহমুদুল হাসান মিলন ও মো. রাশেদুল ইসলাম রনজু (৪২), গ্রেপ্তার করে।
এ সময় ওই প্রিন্টিং প্রেস হতে সিগারেটের প্রায় ১৮ লাখ ৩৮ হাজার নকল ব্যান্ডরোল এবং বিড়ির প্রায় ১০ লাখ ৪৯ হাজার নকল ব্যান্ডরোল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এনবিআরের নকল রাজস্ব সমূহের বাজার মূল্য আনুমানিক ১৭ কোটি টাকা। অভিযানের সময় রুহান প্রিন্টিং প্রেস হতে এনবিআর লেখা সিগারেটের নকল ব্যান্ডরোল তৈরির স্টিলের ১টি লেবেল প্লেট এবং এনবিআর লেখা বিড়ির নকল ব্যান্ডরোল তৈরির একটি কাঠের ফ্রেমের স্ক্রীন প্রিন্ট জব্দ করা হয়। এছাড়া উক্ত অভিযানে নকল আকিজ বিড়ির মোড়ক ৮৯৪০ পাতা, আবুল বিড়ির মোড়ক ৩৮১০ পাতা, গ্রামীণ বিড়ির মোড়ক ২২৫০ পাতা, সোনালী বিড়ির মোড়ক ২৬০০ পাতা, বিভিন্ন ব্রান্ডের বিড়ির মোড়ক ২,০০০ পাতা, আকিজ বিড়ির ফিল্টার ৬,০০০ পাতা, রশিদা বিড়ির ফিল্টার ৩০০০ পাতা, আবুল বিড়ির ফিল্টার ৬০০ পাতা, বিভিন্ন বিড়ির ফিল্টার ১,০০০ পাতা, বিভিন্ন বিড়ির স্টিলের লেবেল প্লেট ১৪০০টি, আকিজ বিড়ির নিজস্ব নিরাপত্তা লোগো যুক্ত কালো গামটেপ ১৫০০টি, ১টি এন্ড্রয়েড মোবাইল, ১টি বাটন মোবাইল ও নগদ ১০ হাজার ৬৪০ টাকাসহ উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-১২ বগুড়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার ফিরোজ আহমেদ জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণে সদর থানায় পাঠানো হয়েছে। র্যাবের এ ধরনের গ্রেপ্তার অভিযান কার্যক্রম চলমান থাকবে এবং ভবিষ্যতে আরো জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।
বেগম রোকেয়াকে ‘মুরতাদ কাফির’ বললেন রাবি শিক্ষক