আকাশছোঁয়া দাম সত্ত্বেও বিশ্বকাপ টিকিটের জন্য ২৪ ঘণ্টায় ৫০ লাখ আবেদন

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:০৭ পিএম

টিকিটের উচ্চমূল্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমর্থকদের তীব্র সমালোচনার মধ্যেই ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য প্রথম ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৫০ লাখ টিকিট আবেদন পাওয়ার দাবি করেছে ফিফা। গতকাল শুক্রবার সংস্থাটি জানায়, টিকিট বিক্রির তৃতীয় ধাপ শুরু হওয়ার পর এই বিপুল আবেদন এসেছে, যা বিশ্বব্যাপী ‘অস্বাভাবিক মাত্রার আগ্রহের’ প্রমাণ।

ফিফার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য ৪৮ দল নিয়ে প্রথম বিশ্বকাপের ড্র সম্পন্ন হওয়ার পর সমর্থকরা প্রথমবারের মতো নির্দিষ্ট ম্যাচের জন্য টিকিটের আবেদন করার সুযোগ পেয়েছেন। ফলে দুইশর বেশি দেশ থেকে আবেদন জমা পড়েছে। তবে একই সঙ্গে টিকিটের নতুন মূল্যতালিকা ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

জার্মান ফুটবল ফেডারেশনের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বের ম্যাচের টিকিটের দাম ১৮০ থেকে ৭০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত। ফাইনালের সর্বনিম্ন টিকিটের মূল্য ৪,১৮৫ ডলার, আর সর্বোচ্চ ৮,৬৮০ ডলার। ইংল্যান্ড সমর্থকদের সংগঠনগুলোর হিসাবে, কেউ যদি শুরু থেকে ফাইনাল পর্যন্ত সব ম্যাচের টিকিট কিনতে চান, তবে খরচ পড়বে ৭ হাজার ডলারেরও বেশি।

ইউরোপের সমর্থক সংগঠন ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ (এফএসই) এই মূল্যকে ‘অতিরিক্ত এবং শোষণমূলক’ বলে অভিহিত করেছে। তারা ফিফাকে অবিলম্বে জাতীয় সংস্থাগুলোর মাধ্যমে টিকিট বিক্রি বন্ধ করে নতুন করে মূল্য পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, ‘এটি বিশ্বকাপের ঐতিহ্য ও সমর্থকদের অবদানকে উপেক্ষা করার শামিল।’

ফিফা অবশ্য সমালোচনার মুখেও অবস্থান বদলানোর কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। সংস্থার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো টিকিটের এই বিপুল চাহিদাকে বিশ্বকাপের প্রতি বৈশ্বিক আগ্রহের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। এবারই প্রথম বিশ্বকাপে ‘ডাইনামিক প্রাইসিং’ চালু করেছে ফিফা, যেখানে চাহিদার ওপর ভিত্তি করে টিকিটের দাম ওঠানামা করবে।

ফিফা জানায়, তৃতীয় ধাপে সবচেয়ে বেশি টিকিট আবেদন এসেছে আয়োজক তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো থেকে। এরপর রয়েছে কলম্বিয়া, ইংল্যান্ড, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি ও ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশ। গ্রুপ পর্বে সবচেয়ে বেশি চাহিদা দেখা গেছে মায়ামিতে অনুষ্ঠিতব্য কলম্বিয়া–পর্তুগাল ম্যাচটির জন্য।

তৃতীয় ধাপের টিকিট আবেদন চলবে ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত। সফল আবেদনকারীদের আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ই-মেইলের মাধ্যমে জানানো হবে এবং তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্থ কেটে নেওয়া হবে। সমালোচনার জবাবে ফিফা জানিয়েছে, অলাভজনক সংস্থা হিসেবে বিশ্বকাপ থেকে অর্জিত আয় তারা বিশ্বজুড়ে ২১১টি সদস্য দেশের পুরুষ, নারী ও যুব ফুটবলের উন্নয়নে পুনরায় বিনিয়োগ করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত