শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে আনুষ্ঠানিক কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করেনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় সংসদের সংসদ (রাকসু)। দিনটিকে স্মরণ করে একটি দোয়া মাহফিল আয়োজনের কথা থাকলেও, তার নির্দিষ্ট সময় নিশ্চিত করতে পারেনি দায়িত্বশীল কোনো প্রতিনিধি।
রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কর্মসূচি পালন করেনি রাকসু।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলেন, নির্বাচিত রাকসু প্রতিনিধিদের কেউ দিবসটিকে স্মরণ পর্যন্ত করছে না। এটা গভীর উদ্বেগের। এহেন আচরণ তাদেরকে প্রশ্ন করতে বাধ্য করে। তারা আসলে বাংলাদেশপন্থী কি-না।
এ বিষয়ে রাকসু সংশ্লিষ্টরা জানায়, দিবসটিকে উদযাপন করতে পুষ্পস্তবক অর্পণ বা আলোচনা সভা আয়োজনের প্রস্তাবনা আসলেও সেটি আয়োজন করা হয়নি। তবে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে একটি মিলাদ মাহফিল আয়োজনের কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চেয়ে রাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) এস এম সালমান সাব্বিরের মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ একাধিক কল ও মেসেজ করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
রাকসুর মিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দিবসটিকে স্মরণ করে এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে আমরা একটি দোয়া মাহফিলের আয়োজন করব। তবে সেটির সময় কখন, কোথায় আয়োজিত হবে সেটি জানতে চাইলে তিনি সেটি নিশ্চিত না করেই কলটি কেটে দেন।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস বাংলাদেশপন্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দিনটি আমার কাছে কেবল শোকের প্রতীক নয় বরং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি গভীর দাগ।
তবে দিবসটি উপলক্ষে প্রথম প্রহরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (রাবিসাস)। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, বিভিন্ন হল, বিভাগ, ইন্সটিটিউট ও ক্রিয়াশীল ছাত্র রাজনৈতিক, সামাজিক ও সেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ ছাড়াও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে সম্মাননা স্মারক ও আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
