ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলিবর্ষণকারীদের গ্রেপ্তারে ভারতের সহযোগিতা চেয়েছে সরকার। রবিবার ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করে সহায়তা চাওয়ার কথা জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘সন্দেহভাজনদের ভারতে পলায়ন ঠেকাতে দেশটির সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। আর যদি তারা ইতোমধ্যে ভারতে প্রবেশ করে, তাহলে যেন দ্রুত গ্রেপ্তার এবং বাংলাদেশের কাছে প্রত্যর্পণ করা হয়।’
ভারতে থেকে ‘বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে’ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বান জানানোর কথাও তুলে ধরা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচন ঠেকানোর জন্য সমর্থকদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর আহ্বান জানিয়ে পলাতক শেখ হাসিনা অব্যাহতভাবে যেসব বিস্ফোরক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন, সে বিষয়ে বাংলাদেশের গুরুতর উদ্বেগ জানাতে ভারতীয় হাই কমিশনারকে তলব করা হয়। শেখ হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান খান কামালকে দ্রুততার সঙ্গে বাংলাদেশের আইনি কর্তৃপক্ষের কাছে প্রত্যর্পণের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ।’
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘আসন্ন নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর পরিকল্পনা, সংগঠন এবং তা বাস্তবায়নে সহযোগিতাসহ ভারতে বসে আওয়ামী লীগের পলাতক সদস্যরা যেসব বাংলাদেশ-বিরোধী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা হাই কমিশনারের নজরে এনেছে।’
আরও বলা হয়, ‘এসব ফ্যাসিস্ট সন্ত্রাসীদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে এবং তাদেরকে যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশের কাছে প্রত্যর্পণের আহ্বান ভারত সরকারের কাছে করা হয়েছে। ন্যায়বিচার সমুন্নত রাখা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সুরক্ষার ক্ষেত্রে ভারত প্রতিবেশি হিসাবে বাংলাদেশের জনগণের পাশে দাঁড়াবে, এমনটাই প্রত্যাশিত।’
শুক্রবার দুপুরে ঢাকার বিজয়নগর পানির ট্যাংকির সামনে ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। গুরুতর অবস্থায় হাদিকে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে এক দফা অস্ত্রোপচারের পর তাকে নেওয়া হয় এভারকেয়ার হাসপাতালে। সেখানে তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড জানিয়েছে, হাদির অবস্থা এখনো ‘আশঙ্কাজনক’।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর শেখ নামে ২ জনকে চিহ্নিত করার কথা জানিয়েছে ডিএমপি।
