উপ-উপাচার্যের বিতর্কিত মন্তব্যে চবি ছাত্রদলের বিক্ষোভ 

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৪৯ এএম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানের এক বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেলওয়ে স্টেশনের সামনের রাস্তা থেকে মিছিল শুরু করেন শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

ওই মিছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক পেরিয়ে জিরো পয়েন্ট হয়ে কাটা পাহাড় ও শহীদ মিনার প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। বিক্ষোভ মিছিল শেষে প্রশাসনিক ভবনের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

বিক্ষোভ মিছিলে ‘বুদ্ধিজীবী হত্যার ইতিহাস অস্বীকার চলবে না, চলবে না’, ‘পাক হানাদার যোদ্ধা না খুনি, খুনি’, ‘৭১-এর টিক্কা খান, ২৫-এর শামীম খান’, ‘আল বদর, আল শামস কেবলা তাদের পাকিস্তান’, ‘চবির চেয়ারে বসে বদরগিরি চলবে না’, ‘মুক্তিযুদ্ধের ঘাঁটি চবির মাটি’, ‘টিক্কা খানের চেহারায়, শামীম খানকে দেখা যায়’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।

শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইয়াছিনের সঞ্চালনায় সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন বলেন, দায়িত্বশীল জায়গা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য যে বক্তব্য দিয়েছেন তা গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। শামীম উদ্দিন খানকে এ বক্তব্যর জন্য ক্ষমা চেয়ে নিঃশর্ত পদ ছেড়ে দিতে হবে।

সমাবেশে গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সংগঠক ধ্রুব বড়ুয়া বলেন, বুদ্ধিজীবী হত্যার যে পরিকল্পনা করা হয়েছিল তা বিভিন্ন ডায়েরিতেই উল্লেখ রয়েছে। যারা এই ইতিহাস অস্বীকার করতে চায়, তারা ২০২৪ সালে জনগণের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত চেতনার ভেতরে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। তারা ১৯৭১ সালকে নানাভাবে বিতর্কিত করতে চায়। তাদের প্রতিহত করতে হবে। আমরা অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খানের নিঃশর্ত ক্ষমা এবং পদত্যাগ দাবি করছি।

শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জালাল সিদ্দিকী বলেন, ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তিকে উদ্দেশ্য করে আমরা বলতে চাই বাংলাদেশের মাটিতে বসে অন্য কোন দেশের তাবেদারি করা চলবে না। আজকে চবি উপ-উপাচার্যের বক্তব্য এর মাধ্যমে বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের প্রতি অসম্মান দেখানো হয়েছে।

সমাবেশে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আল নোমান বলেন, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শামীম উদ্দিন খান যে বক্তব্য দিয়েছেন আমরা ছাত্র সমাজ সেটার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমাদের পূর্বপুরুষেরা তাদের রক্ত দিয়েছে বাংলাদেশ মানুষের স্বাধীনতার জন্য। যারা ১৯৭১ সালের ঘটনাকে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের সঙ্গে মিলিয়ে তুলনা করে তারাই হলো দেশের নব্য রাজাকার।

চাকসুর এজিএস আয়ুবুর রহমান তৌফিক বলেন, অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খান যে চেয়ারে বসে আছেন, সেই চেয়ার আমাদের ২৪ এর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত। আওয়ামী লীগ এক সময় ১৯৭১ সালের চেতনা বিক্রি করেছে আর আরেকটি শক্তি ১৯৭১ সালকে মুছে ফেলতে চাচ্ছে। আমরা ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানকে যেমন মুছতে দেব না, তেমনি ৭১-কেও মুছতে দেব না। তার বক্তব্য ছিল সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বক্তব্যের মতো। এজন্য তাকে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। নিয়াজী যে বিষয়গুলো স্বীকার করেছেন, শামীম উদ্দিন খান সেগুলো অস্বীকার করেছেন। আজ আমাদের অনেকেই নাম নিতে ভয় পায়, কিন্তু আমরা আওয়ামী লীগকে ভয় পাইনি জামায়াতকে কেন ভয় পাব? এই জামায়াতই আওয়ামী লীগকে আবার ফেরত আনবে। তাই তার নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া এবং পদত্যাগ করতে হবে।

উল্লেখ্য, রবিবার দুপুর ১টায় উপাচার্যের দপ্তরে আয়োজিত ‘মুক্তচিন্তা, মুক্তিযুদ্ধ এবং একাত্তরের বুদ্ধিজীবী হত্যা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খান শহীদ বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডকে ‘অবান্তর’ বলে মন্তব্য করেন। যা নিয়ে এই বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত