হাসনাত কাইয়ুম

নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ দেশকে সংকটে ফেলবে

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:০৯ পিএম

নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ দেশকে সংকটে ফেলবে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের কারণে নির্বাচন যদি প্রশ্নের মুখে পড়ে, তাহলে বাংলাদেশ তার সংকট থেকে বের হতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম। 

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ সব কথা বলেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদের (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম প্রমুখ।

হাসনাত কাইয়ুম বলেন, ৫ আগস্ট এর পর ছাত্রদের প্রত্যাশা ছিল হাসিনার মতো আর কেউ যেন ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে না পারে, তার জন্য একটা ব্যবস্থা করতে হবে। আমরাই সেই ব্যবস্থার ফর্মুলা দিয়েছিলাম।

হাসনাত কাইয়ুম বলেন, নির্বাচন সংস্কারের একটি কমিশন তৈরি করা হয়েছিল। নির্বাচন কমিশন একটি সংস্কারের প্রস্তাব হলও দল নিবন্ধন আইন।১/১১ সরকার একটি নিয়ম ছিল, যে কেউ দল করতে পারবে না। দল করতে হলে তার ৫০ টা উপজেলা কমিটি লাগবে,৭ টা জেলা কমিটি লাগবে। এই আইনটা ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে আরও কঠোর করা হলও। তখন বলা হলো যে ১০০ উপজেলায় কমিটি লাগবে, সেই কমিটির ২০০ মানুষের আইডি কার্ড লাগবে এবং একটা কার্যকর অফিস লাগবে। দল করার জন্য একটি বড় বিনিয়োগ করার সক্ষমতা থাকতে হবে। এই আইনের বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করেছিলাম। এবারের নির্বাচন সংস্কার বিষয়ক কমিশন এই আইনটি বলবৎ রাখলও। 

তিনি আরও বলেন, এই আইনের বিরুদ্ধে আমরা মামলা করলাম। মামলায় বললাম, যদি এই ধরনের আইন বলবৎ রাখা হয় তাহলে পাহাড়ে জনগোষ্ঠীরা তো কখনোই দল গঠন করতে পারবে না। কারণ পাহাড়িরা ২০ টি উপজেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ। হয় আঞ্চলিক দল করার অনুমতি দিতে হবে, না হয় জাতীয় পর্যায়ে তিনটি জেলা ও ২০ টি উপজেলা পর্যায়ে কমিটি দিয়ে দল গঠন করতে পারবে। মূলত এই ধরনের আইনের মাধ্যমে কিন্তু পাহাড়িদের রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করার একটি চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এই মামলার রুল ও শুনানি হলো। আদালত টেকনিকাল একটি ভুল ধরে মামলাটি খারিজ করে দিল।  হাসিনার আমলেও আমাদের দলকে নিবন্ধন দেয় নাই। 'অভ্যুত্থানের পর আমরা নির্বাচন কমিশনে গিয়ে বললাম, হাসিনার নিবন্ধন বিষয়ে যে আইন, সেটা একটু রিভিউ করা হোক। তারা বলল, আমাদের তো রিভিউ করার ক্ষমতা নাই। সংস্কার কমিশন কিছু করার আগে আমার আর হাত দিব না। পরে আমরা যখন আদালতে গেলাম, আদালত আমাদেরকে নিবন্ধন দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনকে আদেশ দিল। কিন্তু বর্তমান কমিশনও আমাদের নিবন্ধন দেয়নি। 

তিনি বলেন,  হাসিনার আমলের আইন এখনো পুরোপুরি ভাবে বহাল আছে। এইরকম একটি নির্বাচন কমিশন আগামীতে যে নির্বাচন করবে, তাদের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের কারণে নির্বাচন যদি প্রশ্নের মুখে পড়ে, বাংলাদেশ যে সংকটের মধ্যে রয়েছে তা থেকে বের হতে পারবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত