পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রধান ইমরান খানের কারাবাসের অবস্থা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তার দুই ছেলে। আদিয়ালা কারাগারে তাকে মানসিক নির্যাতন ও অমানবিক পরিবেশে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে ইমরান খানের ছোট ছেলে কাসিম খান বলেন, গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে তার বাবা একাকী সেলে বন্দি। সেখানে তিনি বিশুদ্ধ পানির সুযোগ থেকে বঞ্চিত, গুরুতর অসুস্থ বন্দিদের সঙ্গে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন এবং কারারক্ষীদের সঙ্গেও তার স্বাভাবিক যোগাযোগের সুযোগ নেই। কাসিম খান দাবি করেন, পরিস্থিতি দিন দিন আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে। এমনকি পরিবার আশঙ্কা করছে, তারা হয়তো আর কখনো তাকে দেখতে নাও পারেন।
অপরদিকে বড় ছেলে সুলায়মান খান বলেন, প্রতিদিন প্রায় ২৩ ঘণ্টা যে সেলে তার বাবাকে আটকে রাখা হয়, সেটি কার্যত একটি ‘ডেথ সেল’। তার অভিযোগ, বর্তমানে ইমরান খানকে সম্পূর্ণভাবে বাইরের বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কোনো বন্দির ক্ষেত্রেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এদিকে মঙ্গলবার জাতিসংঘের নির্যাতনবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক অ্যালিস জিল এডওয়ার্ডস ইমরান খানের কারাবাসের অবস্থা নিয়ে পাকিস্তান সরকারকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, যেভাবে ইমরান খানকে আটক রাখা হয়েছে, তা ‘অমানবিক ও মর্যাদাহানিকর’।
এক বিবৃতিতে অ্যালিস জিল এডওয়ার্ডস বলেন, 'আমি পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানাচ্ছি, যেন ইমরান খানের আটকাবস্থার শর্তাবলি আন্তর্জাতিক মান ও নীতিমালার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়।'
তিনি আরও জানান, ২০২৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে স্থানান্তরের পর থেকে ইমরান খানকে দীর্ঘ সময় একাকী কারাবাসে রাখা হচ্ছে। তাকে প্রতিদিন প্রায় ২৩ ঘণ্টা সেলে বন্দি রাখা হয়, বাইরের বিশ্বের সঙ্গে তার যোগাযোগ অত্যন্ত সীমিত এবং তার সেলটি সার্বক্ষণিক ক্যামেরা নজরদারির আওতায় রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
