চার আসনে সংকটে ধানের শীষ

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:২৮ এএম

মনোনয়ন ঘোষণার আগে ঐক্যের প্রতিশ্রুতি দিলেও যশোরের চারটি সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিতরা এখনো অনৈক্যের পথেই রয়েছেন। গত দেড় মাস আগে ধানের শীষ মনোনীতদের নাম ঘোষণার পর থেকে ঐক্যের সেই সুর পাল্টে যেতে থাকে। দলীয় ঐক্য প্রশ্নের মুখে পড়ায় নির্বাচনী মাঠেও ‘ব্যাকফুটে’ পড়েছে দলটি। তার সুবিধা পাচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বীরা।

গত ৩ নভেম্বর প্রথম দফায় ২৩৭ আসনে এবং ৪ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দফায় আরও ৩৬ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে বিএনপি। সর্বশেষ তালিকায় যুক্ত হয় যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসন। এর মধ্য দিয়ে যশোরের ৬টি আসনেই ধানের শীষের প্রার্থী চূড়ান্ত হয়। তবে মনোনয়ন ঘোষণার দেড় মাসেও যশোর ১, ২, ৪ ও ৬ আসনে দল মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে মাঠে নেই মনোনয়নবঞ্চিতরা।

শার্শা আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি। কিন্তু বঞ্চিত তিন নেতা খায়রুজ্জামান মধু, আবুল হাসান জহির ও নুরুজ্জামান লিটন এখনো তার পক্ষে মাঠে নামেননি। বরং তাদের অনুসারীরা মহাসড়ক অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালন করে দলকে বিব্রত করেছেন। এ ঘটনায় জেলা বিএনপি আবুল হাসান জহির ও নুরুজ্জামান লিটনকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়। তারা নোটিসের জবাব দিয়েছেন।

যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন সাবিরা নাজমুল মুন্নি। এ আসন থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান খান, জেলা বিএনপির নেতা অ্যাডভোকেট ইসহাক, চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলাম, ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমরান হাসান সামাদ নিপুন। খুলনা বিভাগের বিএনপি মনোনীত একমাত্র নারীপ্রার্থী মুন্নির মনোনয়ন পরিবর্তন চেয়ে মাঠে একজোট হয়েছেন বঞ্চিতরা।

এদিকে, ধানের শীষের জন্য মাঠে না নেমে বঞ্চিতদের কর্মসূচিতে দেখা যাওয়ায় কেন্দ্র থেকে শোকজ করা হয়েছে ঝিকরগাছা যুবদল, ছাত্রদলের চার নেতাকে। সর্বশেষ যুবদলের ঝিকরগাছা উপজেলা কমিটি ভেঙে দিয়ে আংশিক কমিটিও দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে মিজানুর রহমান খান বলেন, মনোনয়ন পরিবর্তনের জন্য ঝিকরগাছা-চৌগাছার ৫৭ জন নেতা কেন্দ্র বরাবর আবেদন করেছেন। হয়তো ওই আবেদনের বিষয়ে আলোচনা-সিদ্ধান্ত নিতে পারেন শীর্ষ নেতৃত্ব। সেই অপেক্ষায় আছেন নেতাকর্মীরা। তবে দিন শেষে আমরা ধানের শীষের লোক। আমরা বিএনপির প্রার্থীর পক্ষেই থাকব।

যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনে টিএস আইয়ুব মনোনয়ন পেলেও বঞ্চিত দুই নেতা নূরে আলম সিদ্দিকী সোহাগ ও ফারাজী মতিয়ার রহমান পুরোপুরি সক্রিয় নন।

যশোর-৬ (কেশবপুর) কেশবপুরে মনোনয়ন পেয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ। প্রায় এক যুগ পর এলাকায় ফিরে তিনি গণসংযোগ চালালেও মনোনয়নবঞ্চিত অমলেন্দু দাস অপু ও আবুল হোসেন আজাদের বলয় এখনো তার পক্ষে কাজ শুরু করেনি। মনোনয়ন পরিবর্তনের আশায় সভা-সমাবেশ করেন তারা।

ব্যতিক্রম দুই আসন : যশোর-৩ ও যশোর-৫ আসনে ভিন্ন চিত্র। সেখানে দলীয় ঐক্য তুলনামূলকভাবে দৃশ্যমান এবং মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে নেতাকর্মীরা মাঠে রয়েছেন।

এ বিষয়ে যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, আমি খুব একটা অসুবিধা দেখছি না। অভিমান ভেঙে যাবে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা পেলে সমন্বয়ের মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত