নওগাঁ বরেন্দ্র জনপদে আলু, সরিষা ও পেঁয়াজ চাষের মৌসুম চলছে। চাষিদের জমি প্রস্তত করে বিপাকে পড়তে হচ্ছে। সার কিনতে ডিলারের কাছে গেলে সরবরাহের ঘারতির অজুহাত দেখানো হচ্ছে। সার সরবরাহের ঘাটতি দেখানো হচ্ছে কৃষকদের। সরবরাহ ঘাটতি দেখানো হলেও ডিলারদের হাত বদলে চলে যাচ্ছে কালো বাজারে। আর সেখানে চড়া দামে মিলছে সকল ধরনের সার। কালোবাজার বস্তাপতি ৫০০-৬০০ টাকা বেশি দরে কিনতে হচ্ছে এসব সার।
সারের এই সংকট কালে গত ২৪ নভেম্বর মান্দার দেলুয়াবাড়ী এলাকার ডিলারের কাছ রাজশাহীর তানোর উপজেলায় ২০ বস্তা টিএসপি ও ৪০ বস্তা এমওপি সার পাচারের সময় সেনাবাহিনী আটক করে। এরপর গত ৩ ডিসেম্বর পত্নীতলা উপজেলায় সৈনিক ট্রেডার্সের মালিক শিহাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান সহ সভাপতি সিরাজুল ইসলামের গোডাউন থেকে অবৈধভাবে মজুদ করার সময় ১৪৯ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়।
এরপর গত ৮ ডিসেম্বর মহাদেবপুর উপজেলার বাগাচারা থেকে ১৫ বস্তা সার নওগাঁ সদর উপজেলায় পাচারের সময় স্থানীয় জনতা আটক করে। সর্বশেষ ১০ ডিসেম্বরে রাত সাড়ে ১০টার সময় ধামইরহাট উপজেলার পূর্ব বাজার এলাকার সরকার ট্রেডার্সের ১৩০ বস্তা ডিএপি, ৩০ বস্তা টিএসপি সার অন্যত্র পাচারের সময় আটক করে স্থানীয় জনতা।
ভালাইন গ্রামের আলু চাষি শরিফুল ইসলাম জানান, ডিলারের কাছে গেলে চাহিদার ১০ শতাংশ সার পাওয়া যাচ্ছে। ১০ বস্তা সারের প্রয়োজন হলে দিতে চায় ১ বস্তা সার। আবার ৩০০-৫০০ টাকা বেশি দিলে সার পাওয়া যাচ্ছে। ডিএপি সারের খুব সংকট বলে জানান।
অনুসন্ধান করে জানা যায়, কৃষি বিভাগের অসাধু কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় গড়ে তোলা হয়েছে সার সিন্ডিকেট কারবার। তাদের গোপন সমঝোতায় অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার সিন্ডিকেট তৈরি করে ডিলাররা। যার কারণে এখন পর্যন্ত কোন ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহণ করেনি কৃষি বিভাগ।
মান্দা উপজেলায় পাচারের সময় সার বহনকারী গাড়ির চালক শাহীন আলম জানান, সারগুলো দেলুয়াবাড়ি বাজারের বিসিআইসি ডিলার আশরাফ ট্রের্ডাসের ও খুচরা বিক্রেতার কাছ থেকে কিনে রাজশাহীর তানোর উপজেলায় নেওয়া হচ্ছিল। ওই দিন উদ্ধারকৃত সারগুলো জব্দ করে নায্য মূল্য বিক্রয় করা এবং ডিলারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়ার কথা জানান কৃষি কর্মকর্তা শায়লা শারমিন।
উদ্ধারকৃত সার ও ডিলারের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যাবস্থা গ্রহন করা হয়েছে জানতে চাইলে মান্দা উপজেলার কৃষি অফিসার শায়লা শারমিন জানান, উদ্ধারকৃত ৬০ বস্তা সার নায্য মূল্য বিক্রয় করে সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে। আর ডিলারের বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে জানান তিনি।
ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে বিসিআইসি ডিলারের পক্ষে সাফাই গান। অথচ সার উদ্ধারের দিনে তিনি গণমাধ্যমে বক্তব্য দেন, চালকদের জিজ্ঞাবাদে দেলুয়াবাড়ি বাজারের বিসিআইসি ডিলারের নাম পেয়েছেন এবং ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
পত্নীতলা উপজেলায় ১৪৯ বস্তা সার উদ্ধারের ঘটনায় কি ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে জানতে চাইলে পত্নীতলা উপজেলা কৃষি অফিসার সোহরাব হোসেন দেশ রূপান্তরকে জানান, পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য নওগাঁ কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালকে জানানো হয়েছে এখনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।
নওগাঁ কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক হোমায়রা মন্ডল দায়সারা বক্তব্য দিয়ে ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার গ্রহণের কথা জানান।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক আজিজুর রহমানের কাছে ডিলারদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রয় এবং একের পর এক সার পাচারের ঘটনা ঘটছে এবং জড়িত ডিলারদের প্রমাণ পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে না পরার কারণ জানতে চাইলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।
