মেডিকেলে সুযোগ পেয়েও অর্থাভাবে ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় মাসুমা

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:১৭ পিএম

দারিদ্র্যকে পেছনে ফেলে অদম্য মেধা ও পরিশ্রমে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করেছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামের শিক্ষার্থী মাসুমা আক্তার মনিষা। চলতি বছর এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেলেও ভর্তি ব্যয় নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তার পরিবার।

মাসুমা সুন্দরগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে শান্তিরাম গ্রামের মহসিন আলী ও মরিয়ম বেগম দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান। অভাব-অনটনের সংসারেও মেয়েকে ডাক্তার বানানোর স্বপ্ন লালন করতেন বাবা-মা। সেই স্বপ্ন বাস্তব রূপ পেলেও এখন তা বাস্তবায়নের পথে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থসংকট।

মাসুমার শিক্ষাজীবন শুরু সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নিয়ন্ত্রিত ‘শিশু নিকেতন’ বিদ্যালয়ে। সেখান থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাসের পর দুই বছর পড়াশোনা করেন পার্বতীপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে। পরে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি হন সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজে। সেখান থেকেই তিনি ২০২৩ সালের এসএসসি এবং ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেন।

গত ১২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি পরীক্ষায় মাসুমা ১৮৭.২৫ নম্বর পেয়ে মেধাতালিকায় ৮৫তম স্থান অর্জন করে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পান। মেডিকেল কলেজে সুযোগ পেলেও টাকার অভাবে ভর্তি হতে না পারায় দুশ্চিন্তায় রয়েছে পরিবার। তারা সমাজের বিত্তশালীদের সহযোগিতা চেয়েছেন।

সরেজমিনে মাসুমাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় দুই কক্ষবিশিষ্ট একটি সেমিপাকা বাড়ি। বাড়ির ভেতর ও বাহিরে থেকে বোঝা দারিদ্র্যের ছাপ স্পষ্ট। তবে সেই দারিদ্র্য কখনোই দমিয়ে রাখতে পারেনি মাসুমাকে। তীব্র ইচ্ছে শক্তি আর পরিশ্রম দিয়ে দারিদ্রতাকে জয় করেছেন। চিকিৎসক বানানোর স্বপ্ন দেখতেন বাবা-মা। সেই স্বপ্ন পূরণে একধাপ এগিয়ে অদম্য এই মেধাবী।

নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে মাসুমা বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই বাবা-মা ও আত্মীয়দের কাছে শুনে এসেছি—আমাকে একদিন ডাক্তার বানানো হবে। সেই স্বপ্নটাই আমি বুকে লালন করেছি। অনেক মানুষের সহযোগিতায় আজ এতদূর এসেছি। ভবিষ্যতে একজন ডাক্তার হয়ে আমিও মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই।’

মেয়ের এমন সাফল্যে গর্বিত হলেও দুশ্চিন্তায় আছেন তার মা মরিয়ম বেগম। তিনি বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে তিন সন্তানকে পড়াশোনা করিয়েছি। এখন মেয়ের ভর্তি ও পরবর্তী খরচ নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি।’

একই আশঙ্কার কথা জানান মাসুমার বাবা মহসিন আলী। তিনি বলেন, ‘আর্থিক অস্বচ্ছলতার মধ্যেও সন্তানদের পড়াশোনা করাতে গিয়ে এখন আমি প্রায় অসহায়। মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে সবার দোয়া ও সহযোগিতা চাই।’

স্থানীয় সিনিয়র শিক্ষক অশীত কুমার বেনু বলেন, ‘মেয়েটির এমন সাফল্যে আমরা সবাই আনন্দিত। মহসিন আলী ছোটখাটো ব্যবসা করলেও নিয়মিত ঘরভাড়া দিতেও হিমশিম খান। আমি আগেও মাসুমার পড়াশোনায় সহযোগিতা করেছি। সবার সহযোগিতা পেলে সে নিঃসন্দেহে এ এলাকার মুখ উজ্জ্বল করবে।’

উপজেলা পরিষদ নিয়ন্ত্রিত শিশু নিকেতনের প্রধান শিক্ষক জানান, ২০১৭ সালের সমাপনী পরীক্ষায় মাসুমা আক্তার মনিষা ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আর্থিক সংকটে থাকা এই শিক্ষার্থীকে সহযোগিতা করা গেলে তার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে।’

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলির সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। প্রশিক্ষণে ঢাকায় অবস্থান করায় মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এছাড়াও গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমানকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত