নিজেদের ফোন কলের রেকর্ড শুনে হাসলেন সালমান–আনিসুল

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:৩৬ পিএম

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনে কারফিউ জারি ও ছাত্র–জনতার বিরুদ্ধে দমনমূলক পদক্ষেপে উসকানির অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে নিজেদের ফোন কলের অডিও রেকর্ড শুনে হাসতে দেখা গেছে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে।

আজ সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানির সময় এই ঘটনা ঘটে। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের বিচারিক প্যানেলের এজলাসে তখন রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি চলছিল।

শুনানির একপর্যায়ে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আদালতকে জানান, মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে একটি ফোন কলের অডিও রেকর্ড উপস্থাপন করা হবে। আদালতের অনুমতি নিয়ে অডিওটি বাজানো হলে সেখানে আন্দোলন দমনে কঠোর ব্যবস্থা, কারফিউ জারি এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রসঙ্গ উঠে আসে।

অডিও রেকর্ড শোনার সময় আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হককে পরস্পরের দিকে তাকিয়ে হাসতে দেখা যায়। কখনো তাঁরা নিজেদের মধ্যে নিচুস্বরে কথাও বলেন। আদালতে উপস্থিত আইনজীবী ও সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি এ সময় তাদের আচরণের দিকে পড়ে।

চিফ প্রসিকিউটর শুনানিতে বলেন, এই ফোন কলের অডিও থেকেই স্পষ্ট হয় কোন প্রেক্ষাপটে এবং কী উদ্দেশ্যে জুলাই আন্দোলন দমনে কারফিউ ও দমনমূলক সিদ্ধান্তের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। রাষ্ট্রপক্ষের মতে, এসব আলামত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগকে শক্ত ভিত্তি দেয়।

অডিও উপস্থাপনের পর রাষ্ট্রপক্ষ সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আবেদন জানায়। এ পর্যায়ে তাঁদের মুখের হাসি মিলিয়ে যেতে দেখা যায়।

এর আগে, ৪ ডিসেম্বর এই দুই আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। প্রাথমিক শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নেয়। সোমবারের শুনানির মাধ্যমে অভিযোগ গঠনের প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগোল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মামলার পরবর্তী শুনানিতে অভিযোগ গঠন সংক্রান্ত বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের আদেশ আসতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত