আওয়ামী শাসনামলে র্যাবের টিএফআই সেলে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) ১০ জন সেনা কর্মকর্তাকে হাজির করা হয়েছে। ঢাকা ক্যান্টমেন্টের বিশেষ কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে তারা ট্রাইব্যুনালে নিয়ে যাওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারিক প্যানেল আজ সেই মামলায় অভিযোগ গঠনের আদেশ প্রদান করবেন। মামলায় মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, যেখানে শেখ হাসিনা, তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তারা রয়েছেন। এদিন আসামিদের পক্ষ থেকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে যেসব আবেদন করা হয়েছে, তারও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবেন ট্রাইব্যুনাল।
গ্রেপ্তার হওয়া ১০ সেনা কর্মকর্তা হলেন- ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, মো. কামরুল হাসান, মো. মাহাবুব আলম, কে এম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, আনোয়ার লতিফ খান (অবসরপ্রাপ্ত), লে. কর্নেল মো. মশিউর রহমান, সাইফুল ইসলাম সুমন এবং মো. সারওয়ার বিন কাশেম।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ এ মামলার আরও সাত আসামি পলাতক রয়েছেন।
এর আগে, গত ৮ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক দুই মামলায় শেখ হাসিনা, তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিকী ও ডিজিএফআইয়ের সাবেক পাঁচ মহাপরিচালকসহ মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর ১১ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, মামলার ৩০ আসামির মধ্যে ২৫ জনই সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তা। এর মধ্যে ৯ জন অবসরপ্রাপ্ত, একজন এলপিআরে গেছেন, এবং ১৫ জন বর্তমানে কর্মরত।
পরবর্তীকালে ১২ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঢাকা সেনানিবাসের একটি ভবনকে সাময়িক কারাগার হিসেবে ঘোষণা করে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের উপসচিব মো. হাফিজ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ঢাকা সেনানিবাসের বাশার রোড সংলগ্ন ‘এমইএস’ বিল্ডিং নং-৫৪ কে সাময়িকভাবে কারাগার হিসেবে ব্যবহারের জন্য ঘোষণা করা হলো। গ্রেপ্তার সেনা কর্মকর্তাদের পরবর্তীতে এই কারাগারে রাখা হয়।
মাদুরোর জন্য ক্ষমতা ছাড়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ: ট্রাম্প
ভারতের হাইকমিশনারকে তলব