স্বল্পমূল্যের ফ্ল্যাট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:৪০ এএম

বেসরকারি আবাসন খাতের সমস্যা, সম্ভাবনা ও রিহ্যাব ফেয়ার নিয়ে দেশের অন্যতম শিল্পগ্রুপ বসুন্ধরার ইস্ট ওয়েস্ট প্রোপার্টি ডেভেলপমেন্ট (প্রা.) লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) বিদ্যুৎ কুমার ভৌমিক দেশ রূপান্তরের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন। তার সাক্ষাৎকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ তুলে ধরেছেন আমাদের সিনিয়র রিপোর্টার ফয়সাল খান

দেশ রূপান্তর : রিহ্যাব ফেয়ারে ক্রেতা-বিক্রেতা কতটা সুবিধা পায়?

বিদ্যুৎ কুমার ভৌমিক : রিয়েল এস্টেট সেক্টরে রিহ্যাব দীর্ঘদিন ধরে এ মেলার আয়োজন করে থাকে। এতে একই ছাতার নিচে ক্রেতা-বিক্রেতার মিলনমেলা বসে। একেক কোম্পানির লোকেশন এক এক জায়গায়। আর ঢাকা শহরে যে যানজট, এতে করে ক্রেতারা বাজার যাচাই করার সুযোগ খুব কম পান। এ জন্য রিহ্যাব ফেয়ার একটি চমৎকার উদ্যোগ।  

এখানে এক সঙ্গে প্লট-ফ্ল্যাট যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। কোম্পানিগুলো এক সঙ্গে অনেক ধরনের ক্লায়েন্ট পায়।

দেশ রূপান্তর : আবাসন সংকট মোকাবিলায় বেসরকারি খাত কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে?

বিদ্যুৎ কুমার : ঢাকাসহ সারা দেশে আবাসনের বড় সংকট রয়েছে। গত চার দশকে দেশের আবাসন সেক্টরে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। এর পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে রিহ্যাব-সহ অন্য কোম্পানিগুলো। আবাসন শিল্পের বিকাশ মূলত এই ব্যবসায়ীদের হাত ধরেই হয়েছে। আমরা যদি তুলনা করি ৩০ বছর আগের ঢাকা শহরের আবাসন, আর বর্তমান ঢাকা শহরের আবাসন। তাহলেই ধারণা পরিষ্কার হয়ে যাবে।

দেশ রূপান্তর : আবাসন খাতে বসুন্ধরার অবদান কতটুকু?

বিদ্যুৎ কুমার : আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৮৭ সালে। আমাদের মূল প্রকল্প ছিল বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা। এখানে বর্তমানে ১৪ হাজার বিঘার ওপর এ প্রকল্প বিস্তৃত আছে। এই প্রকল্পের আকার এবং বসবাস উপযোগী পরিবেশ তা দেশের প্রেক্ষাপটে অন্যতম। আমরা মানুষের বসবাসের জন্য সব রকম সুবিধা তৈরি করার চেষ্টা করছি। একটি আদর্শ আবাসিক এলাকায় যা দরকার, যেমন স্কুল, কলেজ, বিশ^বিদ্যালয়, হাসপাতাল, সড়ক নেটওয়ার্ক, ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও খোলা জায়গা সবকিছু মিলিয়ে আমরা সর্বোচ্চটা দেওয়ান চেষ্টা করেছি। অনেকগুলো প্রকল্প আমরা হাতে নিয়েছিলাম। সেগুলো আমরা সফলভাবে হস্তান্তর করেছি। মানসম্মত আবাসন তৈরি করার জন্য সামনে আরও বড় বড় প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। 

দেশ রূপান্তর : খেলাধুলা ও চিত্তবিনোদনের জন্য আপনারা কী করেছেন?

বিদ্যুৎ কুমার : আমার ৩০০ বিঘার একটা স্পোর্টস সিটি করেছি। সেখানে বাংলাদেশের প্রচলিত যে খেলা আছে, তার পাশাপাশি বিদেশের নানা খেলা নিয়ে আসছি। এর মধ্যে প্যাডেল টেনিস নিয়ে এসেছি। ১৬টা কোর্ট এখানে আছে। আমাদের দেখাদেখি অনেকেই শুরু করেছে। এটাকে স্বাগত জানাই। এতে দেশে নতুন নতুন খেলার প্রচলন হবে। 

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ডস জিম নিয়ে আসছি। তিনটা ফ্লোর নিয়ে অলিম্পিক স্ট্যান্ডার্ডে এ জিমনেশিয়াম তৈরি করা হয়েছে। স্পোর্টস সিটিতে জুডোসহ অন্যান্য গেমসও রাখা হয়েছে।

আমরা ৪টি পার্ক তৈরি করছি। এর মধ্যে ৩০০ ফিট রাস্তা ঘিরে একটি ওয়াটার পার্ক তৈরি করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের মধ্যে এগুলো দৃশ্যমান হবে। এর মধ্যে হয়তো একটা-দুইটা পার্ক আমরা চালুও করে ফেলব। আমরা একটা গলফ নিয়ে আসছি। টপ গলফ, যেটা আমাদের দেশে প্রথম। আমরা আশা করছি আগামী বছর জুনের মধ্যে টপ গলফ উদ্বোধন করতে পারব।

দেশ রূপান্তর : কম আয়ের মানুষদের আবাসন তৈরিতে আপনাদের কোনো পরিকল্পনা আছে কি না?

বিদ্যুৎ কুমার : বাসস্থান সবারই মৌলিক চাহিদা। তাই কিছুটা মধ্যবিত্তদের জন্য আবাসন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। বসুন্ধরার বিভিন্ন ব্লকে আমরা কিছু অ্যাপার্টম্যান্ট তৈরি করব। সেখানে মধ্যবিত্ত মানুষরা যাতে স্বল্পমূল্যে ফ্ল্যাট কিনতে পারে, সেভাবে মূল্য নির্ধারণ করা হবে।

দেশ রূপান্তর : সম্প্রতি বেশ কয়েকবার ভূমিকম্প নাড়া দিয়েছে। ভূমিকম্প সহনশীল বা টেকসই আবাসন গড়তে আপনার মতামত কী?

বিদ্যুৎ কুমার : এখানে ভবন মালিকদের যেমন দায় আছে, তারচেয়ে বড় দায় রেগুলেটরি অথরেটির। তারা এই বিষয়গুলো কতটুকু মনিটরিং করেন। ঠিকভাবে মনিটরিং হচ্ছে কি না, সেটাও দেখতে হবে। যেসব কোম্পানি আবাসনের সঙ্গে জড়িত তাদেরও এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সচেতন করতে এবং বিল্ডিং কোড মানতে সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানকে উদ্যোগী হতে হবে। 

শেষ যে বড় ভূমিকম্পটা হয়ে গেল, সেখানে আমরা যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতির চিন্তা করেছিলাম সেই তুলনায় কিছুই হয়নি। এটা হয়তো আমাদের সৌভাগ্য। তবে এই সৌভাগ্যের ওপর ভরসা করে বসে থাকলে হবে না।

আবাসনের চাহিদা শুধু ঢাকাতেই নয়, সারা দেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এতে শুধু বসুন্ধরাই নয়, আরও ভালো কিছু কোম্পানি এগিয়ে আসবে। মানুষের সুস্থ ও নিরাপদ আবাসের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। মানসম্মত আবাসনের বিষয় সামনে এলেই বসুন্ধরার নাম চলে আসে। আমাদের চেয়ারম্যান মহোদয়ও সব সময় সবচেয়ে ভালো আবাসন তৈরি করার ব্যাপারে অত্যন্ত আন্তরিক।

দেশ রূপান্তর : আপনাকে ধন্যবাদ।

বিদ্যুৎ কুমার : আপনাকেও ধন্যবাদ। আপনার মাধ্যমে দেশ রূপান্তরের পাঠকদের শুভেচ্ছা জানাই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত