বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের দ্বাদশ আসর শুরু হতে আর এক দিনের অপেক্ষা। বেশিরভাগ ফ্র্যাঞ্চাইজিই পেয়ে গেছে তাদের বিদেশি ক্রিকেটারদের। একসঙ্গে অনুশীলনে শারীরিক কসরত আর দক্ষতার চর্চার পাশাপাশি হৃদ্যতার উষ্ণতা বিনিময় করতেও দেখা গেছে বিপিএল খেলতে আসা বিদেশি ক্রিকেটারদের। যেমন নেপালের সন্দীপ লামিচানে আর পাকিস্তানের মোহাম্মদ আমিরের দেখা হলো সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে, ২০২২ সালের ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে জ্যামাইকা তালাওয়াস-এ সতীর্থ ছিলেন দুজনে। খুশদিল শাহ তো রংপুর রাইডার্সের রীতিমতো ঘরের ছেলে, ঢাকায় পা রেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেটা জানিয়েও দিয়েছেন আর প্রথম দিনের অনুশীলনেও ছিলেন ফুরফুরে।
নেপালের লেগস্পিনার লামিচানের ক্যারিয়ারের শুরুটা হয়েছিল হাওয়ার বেগে। অল্প বয়সেই বিগব্যাশ লিগে ডাক পেয়েছিলেন। কিন্তু ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত হয়ে গ্রহণ লাগে তার ক্যারিয়ারে। আইনি জটিলতা, ভিসা প্রত্যাখ্যান-সহ অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে নেপালের একটি আদালত থেকে খালাস পেয়েছেন লামিচানে। তারপর নিয়মিত জীবনে ফিরেছেন, নেপাল প্রিমিয়ার লিগের সবশেষ আসরে ১৭ উইকেট নিয়ে হয়েছেন সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। আসছে বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সঙ্গে একই গ্রুপে আছে নেপালও। পুরো বিপিএল খেলে নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের সম্পর্কে চমৎকার একটা ধারণাও পেয়ে যাবেন লামিচানে, সেই সঙ্গে মোটা টাকাও! কীভাবে বিপিএলে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের হয়ে খেলতে এলেন, সিলেটে সাংবাদিকদের লামিচানে জানিয়েছেন, ‘আমি নেপাল প্রিমিয়ার লিগের ফাইনাল দেখছিলাম আর তখনই তিনি (হান্নান সরকার) আমাকে টেক্সট করেছিলেন যে আমি রাজশাহী ওয়ারিয়র্সে যোগ দিতে চাই কি না। আমি বেশ রোমাঞ্চ অনুভব করেছিলাম এবং কয়েক মিনিটের মধ্যেই সবকিছু চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল।’
পাকিস্তানের পেসার মোহাম্মদ আমিরের সঙ্গে বেশ খানিকটা সময় আড্ডা দিয়েছেন লামিচানে, জানালেন এক দলে খেলা হয়েছে একাধিকবার, ‘ওহ হ্যাঁ, আমরা খুব ভালো বন্ধু, অনেক আগে থেকেই। আমরা একই দলে বেশ কয়েকবার খেলেছি। ক্রিকেটের অন্যতম সেরা একজন বোলারের সান্নিধ্যে থাকা সবসময় আনন্দের। একজন বামহাতি ফাস্ট বোলার হিসেবে তার অনেক অভিজ্ঞতা আছে। বিশ্বের অন্যতম সেরা একজন বোলারের সঙ্গে কথা বলা সবসময়ই দারুণ।’ শিক্ষার্থী হিসেবে অনেক নেপালিই আসেন বাংলাদেশে, ফুটবলসহ অন্য অনেক খেলায় নেপাল জাতীয় দল বাংলাদেশে এলে নেপালি সমর্থকদের দেখা যায় গ্যালারিতে। লামিচানের চাওয়া, বিপিএলে রাজশাহীর খেলা দেখতে যেন আসেন নেপালিরাও, ‘আমি সবাইকে বলব মাঠে এসে খেলা দেখতে। (নেপালি ভাষায়) সবাই মাঠে আসবেন... আমি জানি আপনাদের বেশিরভাগই ঢাকায় আছেন, তবুও যারা সিলেটের আশপাশে আছেন, দয়া করে মাঠে এসে খেলা দেখুন। ধন্যবাদ।’
ঢাকায় এসে পারিশ্রমিকের ৫০ শতাংশ হাতে পেয়ে নিঃসন্দেহে দিল খুশ হয়ে গেছেন খুশদিল শাহ! বিপিএলকে ঘিরে যত বিতর্ক, তার বেশিরভাগটা জুড়েই থাকে বকেয়া পাওনা। তবে পাকিস্তানের এই অলরাউন্ডার জানিয়েছেন, এই দুর্ভাগ্য তার হয়নি, ‘আমি তো ৪-৫ বছর ধরে বিপিএল আর একবার ঢাকা লিগ খেলতে এসেছি। আলহামদুলিল্লাহ যখনই এসেছি পুরো পেমেন্ট পেয়েছি, এমনকি বোনাসও পেয়েছি।’ দুই মৌসুম কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস আর এক মৌসুম রংপুর রাইডার্সের হয়ে খেলেছেন খুশদিল। এবারে রংপুরের হয়ে খেলার ব্যাপারে দারুণ রোমাঞ্চিত তিনি, ‘আমি যখনই এখানে এসেছি, আল্লাহর শুকরিয়া যে পারফর্ম করেছি। যে দলের হয়েই খেলি না কেন, পারফর্ম করেছি। আর এটা আমার জন্য অবশ্যই ভাগ্যের ব্যাপার কারণ গত বছরও ভালো পারফর্ম করায় পাকিস্তান জাতীয় দলে আমার কামব্যাক (ফিরে আসা) হয়েছে। ইনশাআল্লাহ আমার এটাই চেষ্টা থাকবে যে এ বছরও ভালো পারফর্ম করি এবং নিজের দলকে জেতাই।’ তারকাবহুল রংপুর দলে হয়তো ক্যামিও খেলেই ব্যবধান গড়তে হবে খুশদিলকে, সেটা জেনেই দায়িত্বটা পালন করবেন মাঠে, ‘বাংলাদেশে তো গত ৮-৯ বছর ধরে আসছি। খুব ভালো লাগছে। ভালো না লাগলে তো আসতাম না। আমি যেখানেই যাই, আমার নিজের একটা লক্ষ্য থাকে। যেহেতু আমার ব্যাটিং পজিশনটা একটু ভিন্ন (মাঝেমধ্যে নিচে নামতে হয়), তাই আমার চেষ্টা থাকে যে পজিশনেই খেলি না কেন যত দ্রুত সম্ভব দলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং সেভাবে এগিয়ে যাওয়া।’ রংপুরের প্রথম ম্যাচ ২৯ ডিসেম্বর, তাই বসুন্ধরায় হোম অব রাইডার্সেই এখনো অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছে তারা। অন্য দলগুলো পৌঁছে গেছে সিলেটে।
